হাসান সাহেবের বক্তব্যে কর্মকাণ্ডে ইসলামের মৌলিক ইবাদত জাকাত ফুটে উঠেছে, যার সামাজিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম।
ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের মধ্যে জাকাত তৃতীয়। এটি একটি আর্থিক ইবাদত এবং ইসলামি অর্থব্যবস্থার মূলভিত্তি। জাকাত শব্দের অর্থ প্রাচুর্য লাভ করা, সংশোধন করা ইত্যাদি। নিসাব পরিমাণ ধন-সম্পদের যে নির্ধারিত অংশ নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করা মানুষের ওপর অবশ্য কর্তব্য তাকে জাকাত বলে। জাকাত ধনী গরিবের বৈষম্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
উদ্দীপকের জনাব হাসান তার বন্ধু সাদেক সাহবেকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বন্ধু, তোমার সম্পদে গরিবের অধিকার রয়েছে যা দিয়ে দেওয়া উচিত। যা দিলে সম্পদে বরকত হয়। জাকাত সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। জাকাত সমাজে সহানুভূতির সৃষ্টি করে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও অঞ্চল নির্বিশেষে সমাজের সব মানুষের কল্যাণ সাধন করে। তাছাড়া এর মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়। কেননা অর্থাভাবে বাধ্য হয়ে মানুষ অন্যায় করে, ডাকাতি বা ছিনতাইয়ে লিপ্ত হয়। ফলে সমাজে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়। মানুষ তার জীবন ও সম্পদ নিয়ে শঙ্কাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
জাকাতের সুপ্রভাব বেকার ও অভাবী লোকদের হারাম উপার্জন এবং চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের কবল থেকে সমাজকে নিরাপত্তা দান করে। এভাবেই জাকাত সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করতে পারে।