সুষ্ঠু, সুন্দর ও আদর্শিক সমাজ গঠনে সালাতের গুরুত্ব অপরিসীম। সালাত ইসলামি জীবনদর্শনের অন্যতম স্তম্ভ। ইসলামে সালাতের গুরুত্ব এতো বেশি যে, সালাত ব্যতীত ইসলামি জীবন কল্পনাই করা যায় না। সালাতকে মুমিন জীবনের সার্বিক ট্রেনিং বলে অভিহিত করা হয়। উদ্দীপকের বর্ণনায় সালাতের বিভিন্ন গুরুত্বের সাথে এর সামাজিক গুরুত্বের কথাও বলা হয়েছে। সালাত ব্যক্তিগত ইবাদাত হলেও সমাজের ওপর এর বিরাট প্রভাব বিদ্যমান। সালাতের কারণে দৈনিক পাঁচবার মুসলমানগণ একস্থানে মিলিত হওয়ার সুযোগ পায়। একে অপরের খোঁজখবর নিতে পারে। এতে সামাজিক সম্প্রীতি, একতার বন্ধন, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক মনোভাব সুদৃঢ় হয়ে ওঠে। সালাত মানুষের নৈতিক সত্তা জাগ্রত করে মানুষকে দুর্নীতিমুক্ত প্রকৃত মানুষ হিসেবে বাঁচতে সহায়তা করে। আবার সালাম হলো সাম্যের শ্রেষ্ঠ নমুনা। সালাত আদায়ের সময় ধনী-গরিব সকলে এক কাতারে দাঁড়ায়। সালাত মানুষকে দায়িত্ববোধসম্পন্ন হিসেবে গড়ে তোলে। মহান আল্লাহ বলেন- “নিশ্চয়ই নির্ধারিত সময়ে সালাত আদায় করা মুমিনদের জন্য ফরজ করা হয়েছে। (সূরা নিসা : ১০৩)। বস্তুত নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায়ের এ পদ্ধতি মুসলিমকে দায়িত্বশীল ও সময়ানুবর্তী করে গড়ে তোলে ।
মানুষকে যাবতীয় অন্যায় অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে। ফলে সমাজ অন্যায়, বিশৃঙ্খলা অশান্তি থেকে মুক্ত থাকে। সমাজে শান্তি বজায় থাকে ।
পরিশেষে বলা যায়, সালাত মানুষকে পূর্ণ সামাজিক মানুষে পরিণত করে। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে। সর্বোপরি সততা ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণে সালাতের বিকল্প নাই ।