লক্ষ্য পরিবর্তনশীল— প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ বলে আমি মনে করি। কারণ পরিবারের বিভিন্ন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে লক্ষ্যের পরিবর্তন হয়। আমাদের পারিবারিক জীবনচক্রে বিভিন্ন স্তরে ও ক্রমে ক্রমে লক্ষ্যের পরিবর্তন সাধিত হয়। পারিবারিক জীবনে লক্ষ্যের পরিবর্তন অনবরত ঘটে। আবার কখনো ধারাবাহিকভাবে ঘটে। কখনো কখনো কোনো লক্ষ্যকে একেবারে বাদ দেওয়া হয়, আবার কখনো উদ্দেশ্য সাধন কষ্টকর বলে তাকে অযৌক্তিক মনে হয়। পরিবারের সদস্যদের মনোভাব ও আগ্রহ অনেক সময় নতুন লক্ষ্যের সৃষ্টি করে। মৃত্যু, দুর্ঘটনা, অসুস্থতা, বেকারত্ব, চাকরিচ্যুতির মতো দুঃসময়েও হঠাৎ লক্ষ্য পরিবর্তন করতে হয়। এ ঘটনাগুলো পারিবারিক জীবনে অনেক পরিবর্তন আনে। এক্ষেত্রে পারিবারিক সম্পদের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক উদ্দেশ্যগুলোকে পুনরায় বিবেচনা করে দেখার প্রয়োজন। পরিবারের প্রত্যেকেরই নিজস্ব কিছু চাহিদা আছে। আর এ চাহিদা হতে নিজস্ব পছন্দ তৈরি হয়। যখন সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্তের ওপর লক্ষ্য স্থির করা হয় তখন দ্বন্দ্ব কম হয় এবং লক্ষ্য অর্জন ও সহজতর হয়। কতকগুলো লক্ষ্য প্রত্যেক পরিবারেই বিরাজমান। আর এ প্রধান লক্ষ্যগুলোকে কেন্দ্র করে নির্ধারিত হয় অন্যান্য ছোটবড় লক্ষ্য। উদ্দীপকের নাবিহার এইচএসসি পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল লাভ করতে না পারায় তার বাবা তাকে ডাক্তার হওয়ার লক্ষ্য পরিবর্তন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো একটি ভালো বিষয়ে ভর্তি হতে বলেন। সুতরাং দেখা যায়, অবস্থার পরিবর্তনের কারণে লক্ষ্যও পরিবর্তন হয়।