'এ দুটি দিক যেন ইসলামের দেহ ও রূহ' ড. বেলালের এ উক্তিটিতে শরিয়ত ও তাসাউফকে বোঝানো হয়েছে যা খুবই যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
ইসলামের প্রতিটি বিধানের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ দিক রয়েছে। বাহ্যিক দিক হলো শরিয়ত এবং অভ্যন্তরীণ দিক হলো তাসাউফ। ইসলাম মানুষের বাহ্যিক জীবনব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় যে বিধান দিয়েছে তা-ই শরিয়ত। অপরদিকে আত্মাকে সুস্থ রেখে সব অনৈতিক কাজ থেকে মুক্ত থাকার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনকে তাসাউফ বলে। শরিয়ত ও তাসাউফ একটি অপরটির পরিপূরক, যা ড. বেলাল আনসারীর বক্তব্যের মাধ্যমে বোঝা যায়।
উদ্দীপকের গবেষক ড. বেলাল আনসারী এক সেমিনারে বলেন, 'ইসলামের দুটি দিক রয়েছে।' প্রথমটি হলো- ইসলামি বিধিবিধান ও ইবাদত বাহ্যিকভাবে পালন করা, যাতে কর্তব্য পালন হয়। অন্যটি হলো ইবাদত ও কর্তব্য পালনে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা অবলম্বন, যাতে মানবাত্মার সাথে স্রষ্টার সম্পর্ক গভীর হয়। এ দুটি দিক যেন ইসলামের দেহ ও রূহ।' ড. বেলাল আনসারীর এ বক্তব্য যথার্থ। কারণ দেহ ও রূহ যেমন একটি অপরটির পরিপূরক, তেমনি শরিয়ত ও তাসাউফ, পরস্পরের সাথে গভীর সম্পর্কযুক্ত। কেবল শরিয়ত মেনে চললে যেমন তা গ্রহণযোগ্য হয় না, তেমনি শুধু তাসাউফের অনুসরণেও সাফল্য লাভ সম্ভব নয়। এজন্য একই সাথে শরিয়ত ও তাসাউফের অনুসরণ অনিবার্য। যেমন- শরিয়ত সালাতের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সালাতের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে তাসাউফের ওপর। এজন্যই শরিয়ত ছাড়া তাসাউফ এবং তাসাউফ ছাড়া শরিয়ত অর্থহীন।পরিশেষে বলা যায় শরিয়ত ছাড়া ইবাদত অসম্ভব আবার তাসাউফ ছাড়া সেই ইবাদত গ্রহণীয় নয়। সুতরাং শরিয়ত ও তাসাউফ পরস্পর নির্ভরশীল।