আমি মনে করি উদ্দীপকের ঘটনার সাথে হযরত হাসান বসরি (র.)-এর মিল রয়েছে। ব্যক্তিত্ব ও মুবাল্লিগ হিসেবে হযরত হাসান বসরি (র.)-এর যোগ্যতা ছিল অসাধারণ।
হযরত হাসান বসরি (র.)-এর মধ্যে আল্লাহ তায়ালা সেসব যোগ্যতারই সমাবেশ ঘটিয়েছিলেন, যা সে যুগের বিশেষ অবস্থায় দ্বীন ও ধর্মের মর্যাদা বৃদ্ধি ও দ্বীনি দাওয়াত কার্যকর করার জন্য খুবই জরুরি ছিল। তাঁর ব্যক্তিত্বের মধ্যে সামগ্রিকতা, হৃদয়গ্রহিতা এবং পরিপূর্ণতার সমাবেশ ঘটেছিল। তিনি দ্বীনের ক্ষেত্রে পূর্ণ পান্ডিত্য এবং গভীর অন্তর্দৃষ্টির অধিকারী ছিলেন। তিনি উন্নত ও উঁচুস্তরের মুফাসসির এবং নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিস ছিলেন। তাঁকে বাদ দিয়ে সে যুগে ইজতেহাদ ও সংস্কারমূলক কাজ আঞ্জাম দেওয়া সম্ভব হতো না। তাঁর দাওয়াত, ওয়াজ-নসিহত ও সংস্কারমূলক দরস, সে যুগের মন মানস ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এতই সংঘাতময় ছিল যে, তৎকালীন সমাজের পক্ষে তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখা কিংবা সম্পর্কচ্যুত হয়ে থাকা মুশকিল হয়ে পড়েছিল। তিনি তাঁর জীবনের দীর্ঘ সময় এ দাওয়াতি কার্যক্রম ও সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। এজন্য তাকে দেশ-দেশান্তর সফর করতে হতো। এ উপলক্ষে একবার রোমের রাজদরবারে এক বিষাদময় ভয়ঙ্কর ঘটনা প্রত্যক্ষ করে পার্থিব জীবনের প্রতি ঘৃণা ছুড়ে আধ্যাত্মিক সাধনায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি সর্বপ্রথম হযরত আলি (রা.)-এর তনয় হযরত ইমাম হাসান (রা.)-এর কাছ থেকে ইলমে মারেফাতের দীক্ষা লাভ করেন। অবশ্য তোহফা নামক গ্রন্থের রচয়িতা উল্লেখ করেছেন, হাসান বসরি (র.) হযরত আলি (রা.) -এর একজন বিশিষ্ট শিষ্য ছিলেন এবং তিনি হযরত আলি (রা.)-এর কাছ থেকে আধ্যাত্মিক জ্ঞান লাভ করেছিলেন।
উদ্দীপকে একজন ক্রিকেটারের দ্বীনের মুবাল্লিগ হওয়ার ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। একইভাবে হযরত বসরি (র.)ও একটি বিখ্যাত ঘটনার কারণে বিশ্ববিখ্যাত মুবাল্লিগ হয়েছেন। একজন ব্যক্তি ও মুবাল্লিগ হিসেবে হাসান বসরি (র.) ছিলেন অসাধারণ যোগ্যতাসম্পন্ন।
সুতরাং বলা যায়, হাসান বসরি (র.)-এর ব্যক্তিত্ব ও মুবাল্লিগ হিসেবে তার যোগ্যতা ছিল অসাধারণ, যার দ্বারা তিনি মানুষকে হেদায়েতের পথে পরিচালিত হওয়ায় উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।