উদ্দীপকের বিষয়টি হলো ইলমে তাসাউফ। ইলমে তাসাউফের ক্রমবিকাশের ধারা শুরু হয় রাসুল (সা.)-এর যুগ থেকে ।
রাসুল (সা.)-এর যুগেই তাসাউফ বা সুফিবাদের সূত্রপাত ঘটে। যেমন —রাসুল (সা.)-এর নবুয়ত লাভের পূর্ববর্তী দীর্ঘ সময় ধরে হেরা গুহায় নির্জনে ধ্যানমগ্ন থাকার মধ্যে তাসাউফের মোরাকাবা পদ্ধতির বাস্তব প্রমাণ পাওয়া যায়। অনুরূপ আরও বহু দৃষ্টান্ত রাসুল (সা.) ও তাঁর সাহাবায়ে কিরামের জীবনে পাওয়া যয়। যেমন রাসুল (সা.) তাঁর নবুয়তের ২৩ বছর পুরোটাই, দিনে কঠোর সাধনা ও রাতে অবিরাম ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকতেন। তাঁর জীবনের এমন কোনো রাত অতিবাহিত হয়নি যে, তিনি উক্ত রাতে তাহাজ্জুদ নামায ও অন্যান্য নফল ইবাদত করেননি। রাসুল (সা.)-এর রাত্রিকালীন ইবাদত সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, إِنَّ نَاشِئَةَ اللَّيْلِ هِيَ أَشَدُّ وَظَنَّا وَأَقْوَمُ قِيلًا অর্থাৎ, “নিশ্চয়ই ইবাদতের জন্য রাত্রিতে ওঠা প্রবৃত্তি দমনে সহায়ক এবং স্পষ্ট উচ্চারণের অনুকূল।” (সূরা মুয্যাম্মিল : ৬) ইসলামের প্রথম চার খলিফা জগতের কর্মব্যস্ত শাসক হওয়া সত্ত্বেও পার্থিব জাঁকজমক ত্যাগ করে সময় সময় আল্লাহর ধ্যানে নিমগ্ন হতেন। হযরত ওসমান (রা.)- এর শাহাদাতের পর মুসলিম সমাজে সুফিবাদের প্রভাব বৃদ্ধি পায়।
দৃষ্টান্তস্বরূপ উল্লেখ্য, হযরত উমর (রা.) তাঁর খিলাফতকালে মসজিদে নব্বীতে জুমআর দিনে খুতবার সময় বলেন- يَأْسَارِيَةَ الْجبل الْجَبَلُ অর্থাৎ, “হে সারিয়া! পর্বতের দিকে (লক্ষ কর) পর্বতের দিকে (লক্ষ কর)।” খুতবা দেওয়ার সময় তিনি তাঁর অন্তর্দৃষ্টির মাধ্যমে জ্ঞাত হলেন, শত্রু সেনারা নাহওয়ান্দ নামক রণক্ষেত্রে মুসলিম বাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলা করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। কিন্তু মুসলিম বাহিনী সে ব্যাপারে বেখবর ছিল। এ অবস্থায় তিনি তাদের সতর্ক করার জন্য এ সাবধানবাণী উচ্চারণ করেন। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো এ নির্দেশ বাণীটি তখনই সারিয়ার কাছে পৌঁছেছিল এবং সে মোতাবেক রণকৌশল গ্রহণ করায় সমূহ ক্ষতি থেকে তারা রক্ষা পেয়ে গেলেন। উমাইয়া যুগে তাসাউফের বিকাশ পূর্ণতা লাভ করে । উমাইয়া যুগের শ্রেষ্ঠ সুফি ছিলেন আবু ইসহাক ইমাম হাসান বসরি (র.) ও রাবেয়া বসরি (র.), আবু হাশিম (র.), ইবরাহিম ইবনে আদহাম (র.), মারুফ আল কারখি (র.) প্রমুখ। জ্ঞান-বিজ্ঞানের স্বর্ণযুগ হিসেবে প্রসিদ্ধ আব্বাসি শাসনামলে তাসাউফ বা সুফি মতবাদ পূর্ব নিয়মানুযায়ী চলতে থাকে।
পরিশেষে বলা যায়, ইলমে তাসাউফের ক্রমবিকাশের ধারা শুরু হয় মূলত রাসুল (সা.)-এর মাধ্যমে, যা অদ্যাবধি বিদ্যমান।