ফাহাদ জটাধারীদেরকে সুফি বা আধ্যাত্মিক পুরুষ বলে সম্বোধন করেছে। সুফির শব্দগত উৎপত্তি সম্পর্কে বিভিন্ন অভিমত পাওয়া যায়।
সুফি শব্দের উৎপত্তিগত অভিমতগুলো হলো- ১. অধ্যাপক এ. ই. আফিফি বলেন– আরবি (صرف) সুফুন শব্দ হতে তাসাউফ বা সুফি শব্দের উৎপত্তি। 'সুফ' অর্থ পশম। সুফিগণ সাদাসিধে জীবনযাপনের
জন্য সাদা পশমি পোশাক পরতেন। এ থেকেই 'সুফি' ও 'তাসাউফ' শব্দের উৎপত্তি। আর এ মতটি বেশি গ্রহণযোগ্য। ২. মোল্লা জামির মতে, 'সাফা' (صفی) শব্দ হতে সুফি ও তাসাউফ শব্দের উৎপত্তি। সাফা শব্দের অর্থ পবিত্রতা। সুফিগণ পূতপবিত্র জীবনযাপন করার কারণে তাদেরকে এ নামে আখ্যায়িত করা হয়। ৩. আবার কারও কারও মতে, 'আহলুস্ সুফ্ফা' হতে সুফি শব্দের উৎপত্তি। কারণ দুনিয়ার ঝামেলা বাদ দিয়ে 'আহলুস সুফফার' সাহাবিগণ মদিনার মসজিদে আল্লাহর ধ্যানে মশগুল থাকতেন। এ থেকেই যারা আল্লাহর ধ্যানে মশগুল থাকেন তাঁদেরকে সুফি বলা হয়। ৪. পশ্চিমা পণ্ডিতগণের মতে, সুফি শব্দটি গ্রিক শব্দ 'সাফিয়া' থেকে এসেছে। 'সাফিয়া' অর্থ জ্ঞান। সুফিরা আধ্যাত্মিক জ্ঞানের অধিকারী বলে তাঁদেরকে 'সুফি' বলা হয়। আর তাঁদের শাস্ত্রকে 'তাসাউফ' বলা হয়। ৫. আবার অনেকের মতে, তাসাউফ ও সুফি এ দুটি শব্দ সাফা (صفی) হতে উৎপন্ন হয়েছে, যার অর্থ নির্মল, নিষ্কলুষ, পবিত্র। যাঁরা যাবতীয় পাপ- পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত হয়ে কায়মনোচিত্তে পবিত্রতা অর্জন করেছেন, তাঁরাই সুফি। সুফি সাধনার অভীষ্ট লক্ষ্যই হলো আত্মার পরিশুদ্ধি লাভ করে আদর্শ চরিত্রবান হওয়া। সুতরাং এ অভিমতটিই যুক্তিসংগত। উদ্দীপকে ফাহাদ ও আহাদ দুই বন্ধু মেলায় গিয়ে একদল জটাধারী লোক দেখতে পায়। ফাহাদ ওদেরকে সুফি বলে আখ্যায়িত করে। যদিও আহাদ এদেরকে সুফির বেশধারী ভণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করে। আর সুফি শব্দটির বেশকিছু উৎপত্তিগত মতামত রয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, সুফির শব্দগত উৎপত্তি সম্পর্কে উল্লিখিত মতামতগুলো পাওয়া যায়।