উদ্দীপকের ঘটনাটি আমাদেরকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণের উৎসাহিত করে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি না থাকলে কোনো জাতি উন্নতি করতে পারে না। এতদুভয়ের অনুপস্থিতিতে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট হয়, জাতির উন্নতি বাধাগ্রস্ত হয়, এমনকি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন হয়। বর্তমান মুসলিম সমাজে চিন্তাচেতনায়, আকিদা বিশ্বাসে ও কর্মকাণ্ডে অনেক কুসংস্কার অনুপ্রবেশ করে মুসলিম ঐক্য আর আত্মিক শক্তিতে ভীষণভাবে আঘাত হানছে। মানবিক মূল্যবোধ ধ্বংস হয়ে গেছে। সাম্প্রদায়িক মনোভাব বিরাজ করছে। এহেন অবস্থা থেকে রেহাই পেতে প্রয়োজন মানুষের আত্মশুদ্ধি ও আত্মোপলব্ধির জন্য শরিয়ত ও মারিফাত সমন্বিত শিক্ষার বলিষ্ঠ ইসলামি আন্দোলন ও সংস্কারমূলক রেনেসাঁ। এজন্য মানবিক মূল্যবোধকে বিকশিত করতে পরিশুদ্ধ আত্মার মহান সাধকদের জীবনী থেকে শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে। প্রতিবেশী অমুসলিম হলেও তার প্রতি সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির মনোভাব পোষণ করা সকলের কর্তব্য। তাসাউফ মানুষকে অসাম্প্রদায়িকতার শিক্ষা দেয়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে এক কাতারে দাঁড় করায়। সামাজিক বর্ণবৈষম্য দূর করে। সকল ধর্মের ও বর্ণের লোকদের প্রতি উদার হতে প্রশিক্ষণ দেয়। হিংসা, হানাহানি, রাহাজানি সমূলে ধ্বংস করে।
সুফি-সাধকগণ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সকলের কাছেই প্রিয় ছিলেন । তাদের অনেকেই সুফিগণের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হন । যেমন উদ্দীপকের ঘটনায় খাজা মুইনুদ্দিন চিশতির আদর্শ দেখে ধনাঢ্য হিন্দু মহাজন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন।
পরিশেষে একথা সহজেই বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনার মাধ্যমে আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণের উৎসাহ পাই।