উদ্দীপকের পীর হলেন হযরত আবদুল কাদির জিলানি (র.)। তিনি কঠোর আধ্যাত্মিক সাধনায় নিজেকে নিয়োজিত করেন।
শিক্ষা জীবন সমাপ্ত করেই আব্দুল কাদির জিলানি (র.) গভীর আধ্যাত্মিক জগতে প্রবেশ করেন। দৈহিক সুখ-শান্তির প্রতি আদৌ খেয়াল না করে উত্তম, সুস্বাদু এবং মানুষের স্বাভাবিক খাদ্য বর্জন করে স্থায়ীভাবে বন্য ফলমূল ও বৃক্ষ দ্বারা ক্ষুন্নিবৃত্তি করতে শুরু করেন। ভোগবিলাসকে সম্পূর্ণরূপে দমন করে ফেলেন। জুতা পরিধান ত্যাগ করে খালি পায়ে থাকতেন। মানুষের কোলাহল সংস্রব বর্জন করে নির্জনতা ও মৌনব্রত অবলম্বন করেন। কাজের মধ্যে সদা সর্বদা কুরআন তিলাওয়াত, নামায আদায় এবং আল্লাহর যিকর ও ধ্যানে সময়ক্ষেপণে মগ্ন হলেন। রাতের ঘুম হারাম করে সারারাত জেগে ইবাদত পালন করেন। রাতের নফল নামাযে সমগ্র কুরআন খতম করতেন। এ সময় অবস্থা এমন হয়েছে যে, তিনি প্রভুনাম জপতে জপতে বেহুঁশ হয়ে যেতেন। পুনরায় জ্ঞান ফিরে আসার পর যিকির আযকার শুরু করতেন। যেসব কাজ মানুষের জন্য অসম্ভব হতো তা তিনি অনায়াসে সম্ভব করতেন। যে পথে চলতে মানুষ ভয় পেত, সে পথে তিনি দ্বিধাহীন চিত্তে চলতেন। লোভলালসা বলতে এ সময় তাঁর কিছুই ছিল না। নফসে আম্মারা তথা কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, মাৎসর্য এ ষড়রিপু দমন করে ফিরিশতার গুণার্জনের সাধনা ও সফলতা পূর্ণ মাত্রায় দেখিয়েছেন।
উদ্দীপকেও বর্ণিত হয়েছে, রাস্তার পাশে বড় একটা ডেগ লালসালু দিয়ে আবৃত করে, চারপাশে বাঁশের খুঁটিতে পতাকা টাঙ্গিয়ে দিয়ে জনৈক ব্যক্তি মাইকে বলছে- বড়পীরের নামে সিন্নি করা হবে, দয়া করে শরিক হউন। মূলত, আব্দুল কাদির জিলানি (র.)-এর নামে এগুলো করা হয়। যদিও তাঁর আধ্যাত্মিক সাধনা ছিল শরিয়তসম্মত। দীর্ঘ ২৫ বছর কঠোর সাধনার দ্বারা আব্দুল কাদির জিলানি (র.) মারেফাতের কামালিয়াতের উচ্চস্তরে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাঁর । জীবনের বিভিন্ন কার্যাবলিই তার সাধনার প্রকৃত দৃশ্য আমাদের সম্মুখে উজ্জ্বলরূপে ফুটে ওঠে।