ড. জাওয়াদুল কারিম তাসাউফ সম্পর্কে বক্তব্য দিয়েছেন। তাসাউফের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা প্রত্যেক মুমিনের জন্য অপরিসীম। আল্লাহ তায়ালার সান্নিধ্য অর্জনের অন্যতম মাধ্যম হলো তাসাউফ। এমর্মে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ অর্থাৎ, "আল্লাহকে ভয় কর, আর জেনে রাখ, আল্লাহ তায়ালা মুত্তাকিদের সাথে রয়েছেন।" (সূরা বাকারা: ১৯৪) মানুষের সকল ইবাদতকে আল্লাহর কাছে গ্রহণীয় করে তুলতে হলে আল্লাহ প্রেম ও আল্লাহভীতি অনস্বীকার্য। কেননা আল্লাহভীতি না থাকলে ইবাদতে একাগ্রতা আসে না। একাগ্রতার সাথে নামায বা অন্যান্য ইবাদত পালন করতে হলে ইলমে তাসাউফ চর্চা অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে। এ মর্মে মহানবি (সা.) বলেন, "তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ, আর তুমি যদি তাঁকে দেখতে না পাও তাহলে মনে করবে, তিনি অবশ্যই তোমাকে দেখছেন।" সুতরাং তাসাউফের জ্ঞান অর্জনকারীদের পক্ষেই এভাবে একাগ্রচিত্তে সহজভাবে ইবাদত সম্পন্ন করা সম্ভব। শরিয়তের পাশাপাশি তাসাউফের সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এ সম্পর্কে ইমাম মালিক (র.) বলেছেন- تَزَنْدَقَ - وَمَنْ جَمَعَ بَيْنَهُمَا فَقَدْ تَحَقَّقَ (مُؤَظَا) مَنْ تَفَقَّهُ وَلَمْ يَتَصَوَّفَ فَقَدْ تَفَشَقَ - وَمَنْ تَصَوَّفَ وَلَمْ يَتَفَقَّهُ فَقَدْ অর্থাৎ, "যে ব্যক্তি শুধু ফিক্ বা শরিয়ত শিখল এবং তাসাউফ শিখল না, সে ব্যক্তি ফাসিক বা মিথ্যাবাদী। আর যে ব্যক্তি শুধু তাসাউফ শিখল অথচ ফিকহ, শরিয়ত শিখল না, সে কাফির। আর যে ব্যক্তি এ উভয়ই তথা শরিয়ত ও তাসাউফ শিখল, সেই উপযুক্ত কাজ করল।” (মুয়াত্তা)উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে, ড. জাওয়াদুল করিম সেমিনারে বলেন যে, মুমিনের জন্য তাসাউফের জ্ঞান অর্জন করা এবং সে আলোকে জীবন গড়ে তোলা আবশ্যক। কারণ পবিত্র কুরআন ও হাদিসে এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পরিশেষে বলা যায়, মুমিন ব্যক্তির জীবনে তাসাউফের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।