মুসলমানগণ নৈতিক চরিত্র হারিয়ে ফেলার অনেক কারণ রয়েছে। যেমন ইমানি শক্তি হারিয়ে ফেলা, ইসলামি শিক্ষার অভাব, ইসলামি পরিবেশের অনুপস্থিতি, মানব রচিত আইনকানুনের ভিত্তিতে সমাজ পরিচালনা, ইসলাম বিরোধী শক্তির নিরন্তন প্রচেষ্টা প্রভৃতি।
তাসাউফ বা আত্মশুদ্ধি সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “যে আত্মাকে পূতপবিত্র রাখল সে সাফল্য লাভ করল। আর যে ব্যক্তি আত্মাকে কলুষিত করল সে ধ্বংস হলো।” (সূরা আলা : ১৪-১৫) রাসুল (সা.) বলেন, “সর্বোত্তম জিহাদ হলো প্রবৃত্তির সাথে জিহাদ করা।” রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, “নফস অপেক্ষা মানুষের প্রধান শত্রু আর কিছুই নেই।” সুফিবাদ চর্চার মাধ্যমে সহজেই নফসকে দমন করা সম্ভব। হাদিসে আছে, “তুমি শত্রুতা কর তোমার নফসের সাথে।” তিনি অন্যত্র বলেছেন, “নিশ্চয়ই দেহের মধ্যে এমন একটি মাংসপিণ্ড রয়েছে, যদি তা সুস্থ থাকে তাহলে গোটা দেহ সুস্থ থাকে। আর যদি তা অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাহলে সমস্ত শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে। আর সে মাংসপিণ্ড হলো ক্বালব বা অন্তর।” (বুখারি ও মুসলিম) উক্ত কুরআন ও হাদিসের দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয়, নৈতিক চরিত্র ঠিক করতে হলে আত্মাকে বিশুদ্ধ ও পবিত্র করতে হবে। আত্মাকে বিশুদ্ধ ও পবিত্র করতে পারলেই ইহকাল ও পরকালে মুক্তি লাভ সম্ভব। যেমন— “সেদিন ধনসম্পদ কোনো কাজে আসবে না, আর না কাজে আসবে সন্তান-সন্ততি। বরং সেদিন সে ব্যক্তি মুক্তি পাবে, যে আল্লাহর নিকট বিশুদ্ধ অন্তঃকরণ নিয়ে প্রত্যাবর্তন করবে।” (সূরা শুআরা : ৮৮-৮৯)
আমরা উদ্দীপকটি পর্যালোচনা করলে দেখতে পাই এখানে নৈতিক চরিত্র হারানোর কারণ হিসেবে লোভলালসা, রাগ, হিংসা, প্রতারণা, অসততা ও অনৈতিক ধ্যানধারণার উল্লেখ রয়েছে। আর এর থেকে মুক্তির উপায় হলো তাসাউফ বা আত্মশুদ্ধির পথ অবলম্বন করা। অন্যভাবে বলা যায়, তাসাউফের চর্চা না থাকার কারণে মুসলমানগণ নৈতিক চরিত্র হারিয়ে ফেলেছে। আর এ কথাটিই সঠিক।