কুরাইশদের ইবাদত মোটেই সঠিক ছিল না। আকাইদের আলোকে তাদের কর্মকান্ড ছিল শিরকের অন্তর্ভুক্ত।
ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসকে আকাইদ বলা হয়। ইসলাম আল্লাহ তায়ালার মনোনীত একমাত্র দীন বা জীবনব্যবস্থা। এর বিশ্বাসগত দিকের নাম হলো আকাইদ। আকাইদের বিষয়গুলোতে বিশ্বাস স্থাপন করে আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে হয়। এরপর থেকে ইবাদতের যোগ্য মালিক হিসেবে একমাত্র আল্লাহর সামনেই মাথা নত করা বাঞ্ছনীয়। অথচ কুরাইশগণ সত্য দীনের দাওয়াত পাওয়ার পরও যে পথে হাঁটছিল তা নিঃসন্দেহে অযৌক্তিক, ভ্রান্ত এবং ঘৃণ্য।
আকাইদের বিষয়গুলো হলো আল্লাহ তায়ালা, নবি-রাসুল, ফেরেশতা, আসমানি কিতাব, পরকাল, জান্নাত-জাহান্নাম ইত্যাদি। এ বিষয়গুলো কুরআন ও হাদিস দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ও প্রমাণিত। আল্লাহ তায়ালার একত্ববাদে বিশ্বাস এবং তাঁর সামনে নির্দ্বিধায় মাথা নত করা হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অথচ কুরাইশরা আল্লাহর পরিবর্তে অসংখ্য মূ র্তি তৈরি করে সেগুলোর পূজা করত। পবিত্র কাবাঘরে ৩৬০টি মূর্তি স্থাপন করার সাহস তারা দেখিয়েছিল। এসব মূর্তিগুলোর ছিল না কোনো ক্ষমতা, ছিল না কোনো বুদ্ধি। এরা কারও জন্য কিছুই করতে পারত না। অথচ তারা এগুলোকেই উপাস্য বানিয়েছিল। কুরআনে বর্ণিত হয়েছে "কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়।" (সূরা আশ-শুরা, আয়াত-১১) আল্লাহ তায়ালা এক ও অদ্বিতীয়। তিনি তাঁর সত্তা ও গুণাবলিতে অদ্বিতীয়। তিনিই প্রশংসা ও ইবাদতের একমাত্র মালিক। আল্লাহ বলেন, 'আল্লাহ কারও মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেন নি এবং তাঁকে ও জন্ম দেওয়া হয় নি। আর তাঁর সমত্যু কেউ নেই।' (সূরা ইখলাস)
তাওহিদের এ বিষয়গুলো অস্বীকার করে কুরাইশগণ যে পূজায় লিপ্ত হয়েছে তা হলো শিরক। আর এটি হলো সবচেয়ে বড় জুলুম ও পাপ। আল্লাহ তায়ালা মুশরিকদেরকে কখনোই ক্ষমা করবেন না। তাই বলা যায়, কুরাইমদের ইবাদত সঠিক ও গ্রহণযোগ্য ছিল না।