জনাব 'খ'-এর আচরণ চিহ্নিতপূর্বক তার মায়ের বক্তব্যের যথার্থতা আকাইদের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত 'খ'-এর আচরণটি শিরক।শিরক এর অর্থ হলো অংশীদার সাব্যস্ত করা, একাধিক স্রষ্টা বা উপাস্যে বিশ্বাস করা। ইসলামি পরিভাষায়, মহান আল্লাহর সাথে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে শরিক কিংবা তাঁর সমতুল্য মনে করাকে শিরক বলা হয়। আল্লাহর সাথে শিরক চার ধরনের হতে পারে। তার মধ্যে অন্যতম হলো ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালার সাথে কাউকে শরিক করা। যেমন- আল্লাহ ব্যতীত কাউকে সিজদাহ করা, কারও নামে পশু জবাই করা, কারও নিকট কোনো কিছু সাহায্য প্রার্থনা করা ইত্যাদি।উদ্দীপকে জনাব 'খ' এর আচরণ অর্থাৎ ঘরের দেয়ালে টানানো একজন সাধু পুরুষের ছবিকে সিজদাহ করা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও কাছে প্রার্থনার শামিল। যা ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে শিরক করার অন্তর্ভুক্ত। তাই তার আচরণটি হলো শিরক। তার এরূপ আচরণের প্রেক্ষিতে তার মায়ের বক্তব্যটি যথার্থ। কেননা আমরা জানি, পৃথিবীর সকল প্রকার জুলুমের মধ্যে সবচেয়ে বড় জুলুম হলো শিরক। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "নিশ্চয়ই শিরক চরম জুলুম।" (সূরা লুকমান: ১৩) বস্তুত আল্লাহ তায়ালাই আমাদের স্রষ্টা ও প্রতিপালক। তাঁর প্রদত্ত নিয়ামতই আমরা ভোগ করি। এরপরও কেউ যদি আল্লাহ তায়ালার সাথে কাউকে অংশীদার স্থাপন করে তবে তা অপেক্ষা বড় জুলুম আর কী হতে পারে। আল্লাহ তায়ালা মুশরিকদের প্রতি খুবই অসন্তুষ্ট। তিনি অপার ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু হওয়া সত্ত্বেও শিরকের অপরাধ ক্ষমা করেন না। আল্লাহ তায়ালা বলেন- "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না। এতদ্ব্যতীত যেকোনো পাপ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।" (সূরা আন-নিসা: ৪৮) বস্তুত আল্লাহ তায়ালার দয়া, ক্ষমা ও রহমত ব্যতীত দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ লাভ করা কোনোক্রমেই সম্ভব নয়। পরকালে মুশরিকদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আল-কুরআনে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, “যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করবে আল্লাহ তার জন্য অবশ্যই জান্নাত হারাম করে দেবেন এবং তার আবাস জাহান্নাম।" (সূরা আল-মায়িদা: ৭২)
SSC ইসলাম শিক্ষা CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · ইসলাম শিক্ষা · সৃজনশীল
জনাব 'খ'-এর আচরণ চিহ্নিতপূর্বক তার মায়ের বক্তব্যের যথার্থতা আকাইদের…
উদ্দীপক
Chittagong · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর