যেকোনো একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো: (ক) মনে করো, তুমি ফাহিমা। দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার একজন প্রতিনিধি। সাম্প্রতিক ডেঙ্গুজ্বরের ভয়াবহতা সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন তৈরি করো।
উত্তর: ডেঙ্গুর ভয়াবহতা ও আমাদের করণীয় ফাহিমা ॥ দশম শ্রেণি । বরিশাল ॥ ৭ এপ্রিল ২০২৫ ॥ বাংলাদেশে মাঝেমধ্যেই ডেঙ্গুজ্বরের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। কখনো কখনো এই জ্বর মহামারিরূপে দেখা দেয়। তবে সাম্প্রতিককালে সবচেয়ে ভয়ংকর আতঙ্ক হিসেবে দেখা দিয়েছে ডেঙ্গুজ্বর। এই মহামারি জ্বরে ঢাকাসহ সমগ্র দেশে অনেক মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। সারা দেশে মানুষের মনে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গুজ্বরের আতঙ্ক। এর ভয়ে ঢাকার অনেক স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী ১৯৯৬ সালে গোটা বিশ্বে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছিল প্রায় দুই কোটি মানুষ। ডেঙ্গু এডিস মশাবাহিত ভাইরাসজনিত একধরনের তীব্র জ্বর। ডেঙ্গু সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে। যেমন- ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গুজ্বর ও হেমোরেজিক ডেঙ্গুজ্বর। ডেঙ্গু দুই প্রজাতির স্ত্রী মশা দ্বারা ছড়ায়। একটি হচ্ছে এডিস এজিপটাই ও অন্যটি এডিস এলকোপিপটাস। এডিস এজিপটাই স্ত্রী মশা কোনো ব্যক্তিকে কামড় দিলে সেই মশাটিও ডেঙ্গুজ্বরের জীবাণুবাহী মশায় পরিণত হয়। এগুলো দিনের বেলায় কামড়ায়। এই মশা ডিম পাড়ে প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম পাত্রের পানিতে যেমন- ফুলদানি, ফুলের টব, হাঁড়ির ভাঙা অংশ, পরিত্যক্ত টায়ার, মুখ খোলা পানির ট্যাংক, জলকাদা, 'ডাবের খোসা ইত্যাদিতে। সাধারণত ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে মাসংপেশি ও হাড়ে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। দেহের তাপমাত্রা ১০৪ থেকে ১০৫ ডিগ্রিতে উঠে যায়। মাথা ও চোখের মাংসপেশি ব্যথা, বমি বমি ভাব, বিষন্নতার ছাপ এবং দেহে এক ধরনের ফুসকুড়ি ওঠে। কখনো কখনো মাংসপেশির খিচুনিতে রোগী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। শিশু-কিশোররা এ জ্বরে আক্রান্ত হয় বেশি। ভয়াবহ ডেঙ্গুজ্বরের কোনো চিকিৎসা নেই। নেই প্যাটেন্টকৃত কোনো ওষুধ। উপসর্গ দেখে চিকিৎসা করতে হয়। রোগীকে পুরোপুরি বিশ্রামে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। মারাত্মক উপসর্গ দেখা দিলে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হয়। তবে এসপিরিন বা এ জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা উচিত নয়। রোগীকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসা করাতে হবে। মারাত্মক আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে পানিস্বল্পতা এবং রক্তক্ষরণের চিকিৎসার জন্য আইভি স্যালাইন বা রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হতে পারে। তবে এডিস মশা যেহেতু ডেঙ্গুজ্বরের বাহক, তাই বাহক মশা দমন করাই ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরোধের প্রধান উপায়। এক্ষেত্রে আমাদের করণীয় হলো-বাসগৃহে ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা ইত্যাদিতে জমে থাকা পানি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। দিনের বেলায় মশারি ব্যবহার করা। অর্থাৎ রোগ ছড়ানোর আগেই এডিস মশা নির্মূল করে ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। স্কুল-কলেজের ছাত্র-শিক্ষক এবং অভিভাবকসহ দেশের আপামর জনগণ সচেতন হলেই ভয়াবহ ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরোধ সম্ভব।
SSC বাংলা ২য় পত্র CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · বাংলা ২য় পত্র · সৃজনশীল
যেকোনো একটি বিষয়ে প্রতিবেদন রচনা করো: (ক) মনে করো, তুমি ফাহিমা। দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার একজন প্রতিনিধি। সাম্প্রতিক ডেঙ্গুজ্বরের ভয়াবহতা সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন তৈরি করো।
উত্তর