শেয়ারFacebookWhatsApp

মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার

উত্তর: মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার ভূমিকা: বর্তমান সমাজের রন্ধ্রে রন্দ্রে বিষবাষ্পের মতো ছড়িয়ে পড়েছে নেশার উপকরণ। নেশা সর্বনাশা জেনেও মানুষ এর প্রতি আসক্ত হয়। এর নীল দংশনে দংশিত হচ্ছে কোটি কোটি মানুষ। ড্রাগ বা মাদকাসক্তি অতি আধুনিক সভ্যতার ক্ষেত্রে এক নতুন অভিশাপ। নিজের প্রকৃতিকে বাইরের মাদক দ্বারা অপ্রকৃতিস্থ করার প্রবণতা চিরকালই মানুষের মধ্যে ছিল। কিন্তু যেহেতু মানুষ প্রকৃতির দাস নয়, এই আসক্তির বিপরীত সংস্কারও মানুষের মধ্যে আছে। তাই মানুষ অতীতে মাদকদ্রব্যে আসক্ত হয়েও বহু ক্ষেত্রে আবার তা পরিত্যাগ করে স্বাভাবিক হতে পেরেছে। আজও আমাদের এদিক থেকে সচেতন হতে হবে, ড্রাগের কবল থেকে রক্ষা করতে হবে এদেশের তরুণ সমাজকে। মাদকদ্রব্যসমূহ: মাদকের নেশা খুব দ্রুত মানুষকে আসক্ত করে, আর এই আসক্তির আকর্ষণশক্তি এত তীব্র যে, একবার যাকে স্পর্শ করে তার পক্ষে আবার পূর্বের সহজ জীবনে ফিরে আসা দুষ্কর। নারকোটিক ড্রাগ একজাতীয় মাদকদ্রব্য। হেরোইন, ব্রাউন সুগার, এল-এস-ডি, স্ম্যাক ইত্যাদি নানা রকম এর নাম। মানুষের নেশার জন্য রয়েছে আরও অনেক ড্রাগ। যেমন: গাঁজা, আফিম, চরস, ভাং, পেথিডিন, মরফিন, হাসিস, কোকেন ইত্যাদি। এ ছাড়াও রয়েছে নানা রকম ঘুমের ট্যাবলেট। অধুনা আকাঁড়া কোকেনের সঙ্গে তামাক মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে নতুন ধরনের মাদকদ্রব্য। এ নতুন ড্রাগ 'বাজুকো' নামে ইউরোপের বাজারগুলোতে এখন বেশ জমজমাট। গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল, গোল্ডেন ক্রিসেন্ট, গোল্ডেন ওয়েজ হেরোইনের মূল উৎস আফিম। আর আফিম পাওয়া যায় পপি উৎপাদনের মাধ্যমে। সর্বনাশা নেশার উৎসভূমি: মাদকের উৎস বিদেশের নানান দেশে।আমেরিকা মহাদেশের কলম্বিয়া, বলিভিয়া, লাতিন আমেরিকায় নারকোটিক ড্রাগ তৈরির বিশাল বিশাল চক্র আছে। আমাজানের অববাহিকার গভীর জঙ্গলে 'ল্যান্ড অব ট্যাঙ্ককোয়েলিটি' নামক অঞ্চলে নারকোটিক ড্রাগ শিল্পের বেআইনি শহরটির কথা প্রসংগত স্মরণ করা যায়।এশিয়ার তিনটি এলাকায় প্রধানত পপি উৎপাদিত হয়। এলাকা তিনটি হলো- গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল, গোল্ডেন ক্রিসেন্ট ও গোল্ডেন ওয়েজ। বিভিন্ন ধরনের ড্রাগের কবলে বাংলাদেশ: ড্রাগের উৎপাদন বাড়ছে দ্রুতগতিতে। এবার তো বাজার দরকার। এই বাজারের অন্যতম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে। স্বাধীনতার কয়েক বছর পর থেকে বাংলাদেশে এই নেশা ব্যাপকভাবে ছড়াতে শুরু করেছিল। গাঁজা, চরস, হাসিস, হেরোইন, কোকেন, হেম্প, ব্রাউন সুগার, ওপিয়াম ডেরিভেটিস ইত্যাদি মাদকদ্রব্যে ছেয়ে গেছে দেশ। ১/১৬ গ্রাম হেরোইন বা ব্রাউন সুগার দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করলে সেই ব্যক্তি আর এ নেশা থেকে নিজেকে সহজে মুক্ত করতে পারে না। কৌতূহলের বশবর্তী হয়েও যারা এ নেশার কবলে একবার প্রবেশ করেছে, তারা হয়েছে নরকের কারাগারে বন্দি। মাদকাসক্তির কারণ: বেকারত্ব, হতাশা, বন্ধুবান্ধবের প্ররোচনায় কৌতূহল মেটাতেও মানুষ দু-একবার মাদক সেবন করতে গিয়ে আর বেরিয়ে আসতে পারেনি সেই আসক্তি থেকে। কোথাও কোনো মানসিক আঘাত পেলে সাময়িকভাবে ভুলে থাকার জন্যও মানুষ মাদক সেবন করে, কিন্তু পরে তা নেশায় পরিণত হয়। তাছাড়া চিরন্তন নতুনত্বের নেশা, নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের দুর্নিবার আকর্ষণ এবং সাময়িক ভালো লাগার বশবর্তী হয়েও অনেকে আসক্ত হয়। দেশের বিশেষ সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থায় কেউ কেউ নিজের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে না পেরে হতাশায় ভোগে এবং তা থেকে আসক্ত হতে শুরু করে। মাদকাসক্ত লোকসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসায়ীরাও দূর থেকে কাজ করে। মাদকাসক্ত হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ ও পরিণতি: মাদকাসক্ত হওয়ার পরিণতি খুবই ভয়াবহ। ড্রাগে অভ্যস্ত ব্যক্তিদের আচার-আচরণের মধ্যে একটা খাপছাড়া ভাব পরিলক্ষিত হয়। চেহারাও হয়ে যায় রুক্ষ। ক্ষুধা না পাওয়া এবং দ্রুত ওজন হ্রাস এই আসক্তির প্রাথমিক লক্ষণ। দেখা যায়, তারা যখন-তখন নিজের ঘরে ফিরে আসছে। সেই সঙ্গে বইপত্র, খাতা-কলম ও অন্যান্য দ্রব্য হারিয়ে ফেলা, পায়খানা বা বাথরুমে বেশি সময় কাটানো, চোখের তারা ছোট হয়ে যাওয়া, এমনকি চুরির অভ্যাসও দেখা যায়। এ সময় থেকেই অভিভাবকদের সাবধান হওয়া উচিত। চিকিৎসকদের মতে, এ ভালো লাগা থেকেই ধীরে ধীরে স্নায়ু অসাড় হয়ে যায়, কর্মক্ষমতা লোপ পায় এবং ক্রমে ক্রমে জীবনে মৃত্যুর ঘণ্টাধ্বনি বেজে ওঠে। প্রতিকার: আমাদের তরুণ সমাজই মাদকাসক্তির কবলে আক্রান্ত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। এটা থেকে তাদেরকে রক্ষা করতে না পারলে জাতির জন্য তা অভিশাপ হয়ে থাকবে। এর ক্ষতিকর দিক বিবেচনা করে বিশ্বজুড়ে তা প্রতিরোধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাদকদ্রব্যের উৎপাদন, আমদানি, বিক্রয় ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করে বিশ্বের সব দেশে আইন তৈরি করা হয়েছে। শুধু মাদকাসক্তির কুফলের কথা প্রচার করে বা উপদেশ দিয়ে এই ভয়ংকর ব্যাধির প্রতিকার করা যাবে না। এর হাত থেকে রক্ষার জন্য কঠোর আইন যেমন প্রয়োজন, তেমনই পারিবারিক ও সামাজিকভাবে প্রতিকার করা আবশ্যক। উপসংহার: মাদকাসক্তির ভয়াবহ দাবানল আমাদের তরুণ সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে। মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের রোগ নিরাময়ের দায়িত্ব সবাইকে গ্রহণ করতে হবে। প্রধান দায়িত্ব হলো প্রশাসনের। মাদক ব্যাবসায় লিপ্ত ব্যক্তিদের কঠিন শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। তবে সাধারণ মানুষ যদি এ সমস্যা সমাধানে এগিয়ে না আসে, যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে না দেয়, তবে এই কদর্য ব্যাধির অপসারণ সম্ভব নয়। তাই দেশের সর্বস্তরের মানুষকে মাদকাসক্তির সর্বনাশা অভিশাপ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

SSC বাংলা ২য় পত্র CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক

SSC · বাংলা ২য় পত্র · সৃজনশীল

মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার

উদ্দীপক

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা কর:

Rajshahi · 2025

উত্তর

সময়ানুবর্তিতা ভূমিকা: মর্তের মানুষের চিরন্তন বাণীহারা কান্না- 'নাই নাই, নাই যে সময়।' অনন্ত প্রসারিত সময়ের যাত্রা পথ। পৃথিবীর 'পথিক' মানুষ সময়ের সেই পথরেখা ধরে অগ্রসর হয়। সময়ের মতো মানবজীবন যদি অন্তহীন হতো, তাহলে দুঃখ থাকত না মানুষের। সময় নিরবধি, মানবজীবন সংক্ষিপ্ত। এখানেই গরমিল। মানুষ চায় তার সংক্ষিপ্ত জীবনায়তনের মধ্যে বহুতর কর্মের উদ্যাপন। সময় তা মঞ্জুর করে না। কর্ম উদ্যাপনের আগেই তার বিদায়ের ডাক এসে পড়ে। মানুষের কাছে সময় তাই অমূল্য ধন। সময় চলে যায় নদীর স্রোতের মতো। চিরন্তন প্রবহমানতাই তার মূল বৈশিষ্ট্য। মুহূর্তের জন্যও কোথাও সে স্থির থাকে না, কারও জন্য অপেক্ষা করে না। মানুষের জীবনও সময়ের সেই অনন্ত ছন্দে সুর বেঁধেছে। সময়ের অন্তহীন প্রবাহে সে ছুটে চলেছে জন্ম থেকে মৃত্যুর অভিমুখে। সময়ের গুরুত্ব: সময়ের এই অস্থির ধাবমানতার জন্যই জীবন মানুষের কাছে পরম মূল্যবান। সময় অনন্ত, কিন্তু জীবন সীমাবদ্ধ। তার এক প্রান্তে জন্ম, অন্য প্রান্তে মৃত্যু। এই জন্ম ও মৃত্যুর শাসনে জীবন সদা সংকুচিত। মানুষ চায় সময়ের অন্তহীনতার মতো অন্তহীন জীবন; কিন্তু পায় না। মানবজীবনের চরম ট্র্যাজেডি এখানেই। জীবন যা শুধু ঘণ্টা আর মিনিটের সমাহার মাত্র। জীবনের এই সীমাবদ্ধতার জন্যই সময় এত আদরের, এত মূল্যবান। সময় অনন্ত, কিন্তু জীবন তার অতি সামান্য ভগ্নাংশমাত্র। জীবন থেকে যে সময় একবার চলে যায় তা আর ফিরে পাওয়া যায় না। তাই সময়ানুবর্তিতার গুরুত্ব সম্পর্কে যথার্থ সচেতন থাকা প্রয়োজন। সময়ের অবহেলার পরিণাম: জীবনের এই সীমাবদ্ধ অবসরে দুর্লভ সময়ের যে ভগ্নাংশটুকু পাওয়া যায়, তার সদ্ব্যবহারের মাধ্যমেই জীবন সার্থক এবং সুখময় হয়ে ওঠে। কাজেই জীবনের সংক্ষিপ্ত সীমায়তনের মধ্যে যে পরম মূল্যবান সময় আমরা হাতে পাই, সেই দুর্লভ সময় যদি অবহেলা করে, তাহলে তা হবে সময়ের অপচয়। সেই অপচয়ের পরিণাম আমাদের জীবনে একদিন মর্মান্তিক দুঃখ আর অনুশোচনা নিয়ে আসবে। তখন বুকফাটা আর্তনাদ কিংবা এক সমুদ্র অশ্রুবর্ষণে কিংবা অনুতাপে দগ্ধ হলেও সেই আলস্যে অতিবাহিত সময় আর ফিরে পাওয়া যাবে না। সময়ের মূল্যবোধের অর্থ: প্রকৃতপক্ষে সময়ের যথার্থ মূল্যবোধই জীবনের সাফল্য অর্জনের সোপান। সময়ের মূল্যবোধ হলো, যে সময়ের যে কাজ, তা সেই সময়ে সম্পাদন করা। যে তা করে না, সে করে সময়ের অমর্যাদা এবং পরাজয়ই হয় তার জীবনের চরম পরিণতি। যে কৃষক ফসলের ঋতুতে ফসলের বীজ বপন না করে আলস্যে সময় অতিবাহিত করে, সে কীভাবে ফসল ওঠার সময় খামার পূর্ণ ফসল আশা করতে পারে? সময় চলে গেলে তখন আর কান্নাকাটি করেও লাভ হয় না। মানবজীবনেও সেই একই কথা। আলস্যে অযথা সময় নষ্ট করে জীবন কাটালে শেষ বয়সে অবশ্যই দুঃখ ভোগ করতে হয়। তাই সময়ের মূল্যবোধের গুরুত্ব অনেক। সময়ের অপচয়ের অর্থ: সময়ের মূল্যবোধের অভাবের পেছনে আছে মানুষের নিরাসক্ত জীবনবোধ, আলস্য, উদাসীনতা এবং অদৃশ্য সময়ের নিঃশব্দ অনন্ত যাত্রা। সময়কে চোখে দেখা যায় না, তার অনন্ত যাত্রার ঘণ্টাধ্বনিও শোনা যায় না। মানুষ তাই মনে করে, সময়ও বুঝি তার আলস্যের অনড় পাথরের মতো স্থির হয়ে আছে। তাই সময় পৃথিবীর অলস, কর্মবিমুখ মানুষদের ফাঁকি দিয়ে তার অনাদি যাত্রাপথে প্রস্থান করে। কিন্তু সময় পৃথিবীর সেই অলস, কর্মবিমুখদের আলস্য এবং কর্মবিমুখতাকে ক্ষমা করে না। সময়ের সদ্ব্যবহার: শৈশবই কর্মজীবনে প্রবেশের তোরণ দ্বার। এই সময়ই জীবনের প্রস্তুতির কাল। ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সব দায়িত্বভার বহনের যোগ্যতা এই সময়েই অর্জন করতে হয়। শৈশবকালের প্রতিটি মুহূর্তকে যথাযথভাবে ব্যবহার করলে এবং অমূল্য সময়ের অপচয় না করে তার প্রতিটি দুর্লভ মুহূর্তকে জীবনক্ষেত্রে প্রয়োগ করলে পরবর্তীকালে সুখ ও শান্তি দুই-ই পাওয়া যাবে। শৈশবেই আমাদের উপলব্ধি করতে হবে যে, জীবন মূল্যবান এবং তার অন্তর্ভুক্ত সময় অত্যন্ত সীমিত ও অমূল্য। সেই অমূল্য সম্পদ আছে আমাদের সবার অধিকারে, সবার হাতের মুঠোয়। উপসংহার: সময়ের অপচয় একটা বড় অপরাধ। যারা সময় নষ্ট করে তারা জীবনে উন্নতি করতে পারে না। সময়ের যথার্থ মূল্যবোধই ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনের সাফল্যের সোপান। যেহেতু সময় জীবনের সমস্ত সাফল্য ও সুখের উৎস, তাই প্রত্যেককে সময়ের মূল্য সম্বন্ধে সচেতন হওয়া এবং তার সদ্ব্যবহার করা উচিত। তবেই জাতি পাবে গতি, দেশ হবে সমৃদ্ধ, জীবন হবে আনন্দময়।

উত্তর

কৃষিকাজে বিজ্ঞান ভূমিকা: কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ এবং জনজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশের প্রায় ৪০.৬% জনসংখ্যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষি পেশার সঙ্গে জড়িত (BBS, 2023)। তবে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, জলবায়ু পরিবর্তন, ভূমির স্বল্পতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ঐতিহ্যগত কৃষিপদ্ধতি আজ আর যথেষ্ট নয়। এ প্রেক্ষাপটে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নয়ন কৃষিক্ষেত্রে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। আধুনিক বিজ্ঞান যেমন- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), রোবোটিকস, ড্রোন প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কৃষি এখন আরও উৎপাদনশীল, টেকসই ও লাভজনক হয়ে উঠছে। আধুনিক বীজ প্রযুক্তি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং: বিজ্ঞানভিত্তিক ফসলের জাত উদ্ভাবনের ফলে কৃষিতে বিপ্লব ঘটেছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার এগ্রিকালচার (BINA) ও বাংলাদেশ রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (BRRI) মিলিতভাবে উচ্চফলনশীল ও রোগপ্রতিরোধী ১৩২টি জাত উদ্ভাবন করেছে, যার ফলে কৃষকরা একই জমিতে অধিক ফলন পাচ্ছেন। উদাহরণস্বরূপ, Bt বেগুন চাষের মাধ্যমে কৃষকেরা কীটনাশকের ব্যবহার ৭৬% হ্রাস করতে পেরেছেন এবং ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে ৫১% পর্যন্ত। এতে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা ও উৎপাদন ব্যয় কমেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার: স্মার্ট কৃষির মাধ্যমে এখন কৃষি কাজ আরও কার্যকর ও তথ্যভিত্তিক হয়েছে। SMARD প্রকল্পের মাধ্যমে মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে গাছের রোগ চিহ্নিতকরণে ৯৭.৩% নির্ভুলতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। একইসঙ্গে IPAGE (Intelligent Precision Agriculture System) এআই-ভিত্তিক কৃষি তথ্যব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকেরা আবহাওয়ার পূর্বাভাস, ফসলের পরিচর্যা, বাজারমূল্যসহ সব তথ্য এক প্ল্যাটফর্মে পাচ্ছেন, যার ফলে উৎপাদন বেড়েছে ১২% এবং সার ব্যবহারে ৪০% হ্রাস পেয়েছে (ITC, 2024)। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ ও অভিযোজন প্রযুক্তি: জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের কৃষির অন্যতম বড় হুমকি। ২০২৪ সালের বন্যায় প্রায় ১১ লাখ মেট্রিক টন ধান নষ্ট হয়েছে, যার ফলে খাদ্য ঘাটতির ঝুঁকি তৈরি হয় (Reuters, 2024)। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় BRRI স্যালাইন, খরা ও বন্যা সহনশীল ধান এবং গমের জাত উদ্ভাবন করেছে। এছাড়া মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কৃষকেরা তাৎক্ষণিক আবহাওয়ার তথ্য পেয়ে সময়োচিত পদক্ষেপ নিতে পারছেন। টেকসই কৃষি ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি: সমন্বিত কৃষি পদ্ধতি যেমন Integrated Floating Cage Aquageoponics System (IFCAS)-এর মাধ্যমে একসঙ্গে মাছ, সবজি ও ধান চাষ করা সম্ভব, যা বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে টেকসই খাদ্য উৎপাদনের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। অন্যদিকে Precision Agriculture-এ স্যাটেলাইট, সেন্সর ও ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষকের সময় ও খরচ দুটোই কমিয়ে দিয়েছে। এতে পানি ব্যবহার ২০-৩০% কমেছে এবং উৎপাদন বেড়েছে ৩০-৪০% (The Business Standard, 2024) । কৃষি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (BAU) ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (BARC) কৃষি প্রযুক্তির গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। সম্প্রতি BAU উচ্চফলনশীল ও অধিক পুষ্টিমানসম্পন্ন মিষ্টি আলু, সরিষা ও ডাল জাতীয় শস্য উদ্ভাবন করেছে, যা কৃষকের আয় বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখছে। এছাড়া IFAD-এর মাধ্যমে পরিচালিত NATP-II প্রকল্পের আওতায় ৫৭টি জেলায় প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, প্রশিক্ষণ ও বাজার সংযোগ সেবা প্রদান করা হচ্ছে (IFAD, 2024) 1 চ্যালেঞ্জ ও সতর্কতা: বিজ্ঞানের অবদান কৃষিক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে বিপ্লব এনেছে। তবে এর সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকিও যুক্ত হয়েছে, যা বিবেচনায় নেওয়া অপরিহার্য। ক. সুবিধাসমূহ (Merits): ◉ উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা: উচ্চফলনশীল জাত ও প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষিতে উৎপাদন অনেক গুণ বেড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, Bt বেগুন চাষে ফলন ৫১% বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কীটনাশকের ব্যবহার ৭৬% কমেছে, যা স্বাস্থ্য ও পরিবেশ উভয়ের জন্য উপকারী। ◉ পরিশ্রম ও সময় সাশ্রয়: আধুনিক যন্ত্রপাতি যেমন- পাওয়ার টিলার, হ্যারো, সিড ড্রিল ইত্যাদির ব্যবহারে কৃষিকাজের গতি বেড়েছে এবং শ্রম ব্যয় কমেছে (BARI Annual Report, 2023) | ◉ জলবায়ু অভিযোজন: বিজ্ঞানভিত্তিক জাত যেমন- খরা-সহনশীল ও লবণাক্ততা-সহিষ্ণু ধান উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃষকরা জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলা করতে পারছেন (BRRI, 2024)। ◉ দূরবর্তী পরামর্শ ও বাজার সংযোগ: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে কৃষকেরা সহজে কৃষি পরামর্শ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার দর জানতে পারছেন (ITC, 2024) | খ. অসুবিধাসমূহ (Demerits): ◉ প্রযুক্তির উচ্চমূল্য ও প্রবেশাধিকারে বৈষম্য: উন্নত যন্ত্রপাতি,ড্রোন বা সেন্সর প্রযুক্তি সাধারণ কৃষকদের জন্য ব্যয়বহুল হওয়ায় প্রযুক্তির সুবিধা সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ছে না। ◉ দক্ষতার ঘাটতি ও প্রশিক্ষণের অভাব: অনেক কৃষক আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখেন না, ফলে ভুল প্রয়োগে ফসল নষ্ট বা ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়। ◉ ই-ওয়েস্ট ও প্রযুক্তি-নির্ভরতা: অধিক প্রযুক্তি ব্যবহারে ইলেকট্রনিক বর্জ্য (e-waste) বৃদ্ধির ঝুঁকি রয়েছে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর (UNEP Report, 2023) | ◉ পরিবেশ দূষণ ও জীববৈচিত্র্য হুমকি: জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা অতিরিক্ত সার-কীটনাশকের ব্যবহারে পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ◉ আঞ্চলিক বৈষম্য: প্রযুক্তি প্রধানত উন্নত অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক কৃষকেরা পিছিয়ে পড়ছেন, যার ফলে আয় ও উৎপাদনে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে (BBS, 2023) । সতর্কতা ও সুপারিশ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারের উচিত- ◉ কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির ব্যয় হ্রাসে ভর্তুকি প্রদান। ◉ কৃষি প্রযুক্তির পরিবেশবান্ধবরূপে ব্যবহার নিশ্চিত করা। ◉ ই-ওয়েস্ট ব্যবস্থাপনায় নীতিমালা প্রণয়ন ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তির প্রচলন করা। ◉ প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার সম্প্রসারণ। বিজ্ঞানের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত হলেই কৃষিতে টেকসই ও ন্যায্য উন্নয়ন সম্ভব। উপসংহার: বাংলাদেশের কৃষিতে বিজ্ঞানের প্রয়োগ একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ ও গুণমান বৃদ্ধি, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত টেকসইতার ক্ষেত্রে বিজ্ঞান অপরিহার্য হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। তবে প্রযুক্তিকে সর্বোচ্চ কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে চাইলে সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত ও কৃষকের মধ্যে সমন্বয়, প্রশিক্ষণ ও নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। সঠিক দিকনির্দেশনা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা থাকলে বাংলাদেশের কৃষি আগামী দশকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

উত্তর

মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার ভূমিকা: বর্তমান সমাজের রন্ধ্রে রন্দ্রে বিষবাষ্পের মতো ছড়িয়ে পড়েছে নেশার উপকরণ। নেশা সর্বনাশা জেনেও মানুষ এর প্রতি আসক্ত হয়। এর নীল দংশনে দংশিত হচ্ছে কোটি কোটি মানুষ। ড্রাগ বা মাদকাসক্তি অতি আধুনিক সভ্যতার ক্ষেত্রে এক নতুন অভিশাপ। নিজের প্রকৃতিকে বাইরের মাদক দ্বারা অপ্রকৃতিস্থ করার প্রবণতা চিরকালই মানুষের মধ্যে ছিল। কিন্তু যেহেতু মানুষ প্রকৃতির দাস নয়, এই আসক্তির বিপরীত সংস্কারও মানুষের মধ্যে আছে। তাই মানুষ অতীতে মাদকদ্রব্যে আসক্ত হয়েও বহু ক্ষেত্রে আবার তা পরিত্যাগ করে স্বাভাবিক হতে পেরেছে। আজও আমাদের এদিক থেকে সচেতন হতে হবে, ড্রাগের কবল থেকে রক্ষা করতে হবে এদেশের তরুণ সমাজকে। মাদকদ্রব্যসমূহ: মাদকের নেশা খুব দ্রুত মানুষকে আসক্ত করে, আর এই আসক্তির আকর্ষণশক্তি এত তীব্র যে, একবার যাকে স্পর্শ করে তার পক্ষে আবার পূর্বের সহজ জীবনে ফিরে আসা দুষ্কর। নারকোটিক ড্রাগ একজাতীয় মাদকদ্রব্য। হেরোইন, ব্রাউন সুগার, এল-এস-ডি, স্ম্যাক ইত্যাদি নানা রকম এর নাম। মানুষের নেশার জন্য রয়েছে আরও অনেক ড্রাগ। যেমন: গাঁজা, আফিম, চরস, ভাং, পেথিডিন, মরফিন, হাসিস, কোকেন ইত্যাদি। এ ছাড়াও রয়েছে নানা রকম ঘুমের ট্যাবলেট। অধুনা আকাঁড়া কোকেনের সঙ্গে তামাক মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে নতুন ধরনের মাদকদ্রব্য। এ নতুন ড্রাগ 'বাজুকো' নামে ইউরোপের বাজারগুলোতে এখন বেশ জমজমাট। গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল, গোল্ডেন ক্রিসেন্ট, গোল্ডেন ওয়েজ হেরোইনের মূল উৎস আফিম। আর আফিম পাওয়া যায় পপি উৎপাদনের মাধ্যমে। সর্বনাশা নেশার উৎসভূমি: মাদকের উৎস বিদেশের নানান দেশে।আমেরিকা মহাদেশের কলম্বিয়া, বলিভিয়া, লাতিন আমেরিকায় নারকোটিক ড্রাগ তৈরির বিশাল বিশাল চক্র আছে। আমাজানের অববাহিকার গভীর জঙ্গলে 'ল্যান্ড অব ট্যাঙ্ককোয়েলিটি' নামক অঞ্চলে নারকোটিক ড্রাগ শিল্পের বেআইনি শহরটির কথা প্রসংগত স্মরণ করা যায়।এশিয়ার তিনটি এলাকায় প্রধানত পপি উৎপাদিত হয়। এলাকা তিনটি হলো- গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল, গোল্ডেন ক্রিসেন্ট ও গোল্ডেন ওয়েজ। বিভিন্ন ধরনের ড্রাগের কবলে বাংলাদেশ: ড্রাগের উৎপাদন বাড়ছে দ্রুতগতিতে। এবার তো বাজার দরকার। এই বাজারের অন্যতম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে। স্বাধীনতার কয়েক বছর পর থেকে বাংলাদেশে এই নেশা ব্যাপকভাবে ছড়াতে শুরু করেছিল। গাঁজা, চরস, হাসিস, হেরোইন, কোকেন, হেম্প, ব্রাউন সুগার, ওপিয়াম ডেরিভেটিস ইত্যাদি মাদকদ্রব্যে ছেয়ে গেছে দেশ। ১/১৬ গ্রাম হেরোইন বা ব্রাউন সুগার দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করলে সেই ব্যক্তি আর এ নেশা থেকে নিজেকে সহজে মুক্ত করতে পারে না। কৌতূহলের বশবর্তী হয়েও যারা এ নেশার কবলে একবার প্রবেশ করেছে, তারা হয়েছে নরকের কারাগারে বন্দি। মাদকাসক্তির কারণ: বেকারত্ব, হতাশা, বন্ধুবান্ধবের প্ররোচনায় কৌতূহল মেটাতেও মানুষ দু-একবার মাদক সেবন করতে গিয়ে আর বেরিয়ে আসতে পারেনি সেই আসক্তি থেকে। কোথাও কোনো মানসিক আঘাত পেলে সাময়িকভাবে ভুলে থাকার জন্যও মানুষ মাদক সেবন করে, কিন্তু পরে তা নেশায় পরিণত হয়। তাছাড়া চিরন্তন নতুনত্বের নেশা, নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের দুর্নিবার আকর্ষণ এবং সাময়িক ভালো লাগার বশবর্তী হয়েও অনেকে আসক্ত হয়। দেশের বিশেষ সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থায় কেউ কেউ নিজের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে না পেরে হতাশায় ভোগে এবং তা থেকে আসক্ত হতে শুরু করে। মাদকাসক্ত লোকসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসায়ীরাও দূর থেকে কাজ করে। মাদকাসক্ত হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ ও পরিণতি: মাদকাসক্ত হওয়ার পরিণতি খুবই ভয়াবহ। ড্রাগে অভ্যস্ত ব্যক্তিদের আচার-আচরণের মধ্যে একটা খাপছাড়া ভাব পরিলক্ষিত হয়। চেহারাও হয়ে যায় রুক্ষ। ক্ষুধা না পাওয়া এবং দ্রুত ওজন হ্রাস এই আসক্তির প্রাথমিক লক্ষণ। দেখা যায়, তারা যখন-তখন নিজের ঘরে ফিরে আসছে। সেই সঙ্গে বইপত্র, খাতা-কলম ও অন্যান্য দ্রব্য হারিয়ে ফেলা, পায়খানা বা বাথরুমে বেশি সময় কাটানো, চোখের তারা ছোট হয়ে যাওয়া, এমনকি চুরির অভ্যাসও দেখা যায়। এ সময় থেকেই অভিভাবকদের সাবধান হওয়া উচিত। চিকিৎসকদের মতে, এ ভালো লাগা থেকেই ধীরে ধীরে স্নায়ু অসাড় হয়ে যায়, কর্মক্ষমতা লোপ পায় এবং ক্রমে ক্রমে জীবনে মৃত্যুর ঘণ্টাধ্বনি বেজে ওঠে। প্রতিকার: আমাদের তরুণ সমাজই মাদকাসক্তির কবলে আক্রান্ত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। এটা থেকে তাদেরকে রক্ষা করতে না পারলে জাতির জন্য তা অভিশাপ হয়ে থাকবে। এর ক্ষতিকর দিক বিবেচনা করে বিশ্বজুড়ে তা প্রতিরোধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাদকদ্রব্যের উৎপাদন, আমদানি, বিক্রয় ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করে বিশ্বের সব দেশে আইন তৈরি করা হয়েছে। শুধু মাদকাসক্তির কুফলের কথা প্রচার করে বা উপদেশ দিয়ে এই ভয়ংকর ব্যাধির প্রতিকার করা যাবে না। এর হাত থেকে রক্ষার জন্য কঠোর আইন যেমন প্রয়োজন, তেমনই পারিবারিক ও সামাজিকভাবে প্রতিকার করা আবশ্যক। উপসংহার: মাদকাসক্তির ভয়াবহ দাবানল আমাদের তরুণ সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে। মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের রোগ নিরাময়ের দায়িত্ব সবাইকে গ্রহণ করতে হবে। প্রধান দায়িত্ব হলো প্রশাসনের। মাদক ব্যাবসায় লিপ্ত ব্যক্তিদের কঠিন শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। তবে সাধারণ মানুষ যদি এ সমস্যা সমাধানে এগিয়ে না আসে, যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে না দেয়, তবে এই কদর্য ব্যাধির অপসারণ সম্ভব নয়। তাই দেশের সর্বস্তরের মানুষকে মাদকাসক্তির সর্বনাশা অভিশাপ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।
SSCবাংলা ২য় পত্র
12টি সম্পর্কিত প্রশ্ন — উত্তর ও ব্যাখ্যা লকড

1.ভাষার মূল উপকরণ কী?

Dinajpur · 2016

  • ধ্বনি
  • শব্দ
  • বাক্য
  • বর্ণ

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

2.কোন বাক্যটি সাপেক্ষ ভাব প্রকাশ করছে?

Dinajpur · 2016

  • আমাকে বই দাও।
  • যদি সে যেত, আমি আসতাম।
  • তোমার ইচ্ছা পূর্ণ হোক।
  • রেবা ভাল গান করে।

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

3.নিচের কোনটি গুণবাচক বিশেষ্য?

Dinajpur · 2016

  • দর্শন
  • মধুর
  • তরল
  • তিক্ততা

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

4.বর্তমানে পৃথিবীতে কত ভাষা প্রচলিত আছে?

Dinajpur · 2016

  • আড়াই হাজারের বেশি
  • দুই হাজারের বেশি
  • সাড়ে তিন হাজারের বেশি
  • তিন হাজারের বেশি

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

5.নিচের কোনটিতে 'অপত্য' অর্থে প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে?

Dinajpur · 2016

  • মধুর
  • বৈষ্ণব
  • পার্থিব
  • মানব

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

6.নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি?

Dinajpur · 2016

  • প্রত্যেক
  • মার্তণ্ড
  • স্বল্প
  • তন্বী

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

7.বাক্যের অর্থ-সংগতি রক্ষার জন্য পরোক্ষ উক্তিতে কোন পদের পরিবর্তন করতে হয়?

Dinajpur · 2016

  • বিশেষ্যের
  • অব্যয়ের
  • বিশেষণের
  • সর্বনামের

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

8.নিচের কোন বানানটি সঠিক?

Dinajpur · 2016

  • জিনিষ
  • পোষ্ট
  • পোষাক
  • প্রতিষেধক

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

9.শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে- বাক্যটিতে ব্যবহৃত হয়েছে?

Dinajpur · 2016

  • যৌগিক ক্রিয়া
  • নামধাতুর ক্রিয়া
  • প্রযোজক ক্রিয়া
  • মিশ্র ক্রিয়া

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

10.বিশেষ্য, বিশেষণ ও অনুকার অব্যয়ের পরে 'আ' প্রত্যয় যোগ করে যে ধাতু গঠিত হয় তাকে কী বলে?

Dinajpur · 2016

  • সাধিত ধাতু
  • মৌলিক ধাতু
  • কর্মবাচ্যের ধাতু
  • নামধাতু

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

11.হিসেবে গরমিল থাকলে খাসমহল লাটে উঠবে-এ বাক্যের উপসর্গগুলো হলো-

Dinajpur · 2016

  • তৎসম
  • বাংলা
  • ফারসি
  • আরবি

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

12.বচনবাচক শব্দটির আগে বসে কোনটি?

Dinajpur · 2016

  • গোটা
  • খানা
  • খানি
  • টা

উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

আরো প্রশ্ন দেখো

আরো হাজারো প্রশ্ন + মডেল টেস্ট

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো — ফেভারিট, AI টিউটর, লিডারবোর্ড ও অ্যানালিটিক্স আনলক করো।