বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর: বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। উন্নত জাতি গঠনে শিক্ষার বিকল্প নেই। শিক্ষাকে তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়। যথা: প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা। বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে এই শিক্ষা প্রদান করা হয়। উচ্চশিক্ষা দিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। দেশে প্রচলিত শিক্ষাস্তরের প্রতিটি ধাপে সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়ে একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থাকে উচ্চশিক্ষা অর্জন করা। সেটা হতে পারে দেশে কিংবা বিদেশে। আর এই উচ্চশিক্ষার মাধ্যম হলো বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৭১ সালের সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের একমাত্র ক্ষেত্র ছিল আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত ছয়টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে বাংলাদেশে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৭টি। 'প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট-১৯৯২' পাশ হওয়ার পর দেশে বেসরকারি উদ্যোগে উচ্চশিক্ষা বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়। বর্তমানে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৯০টিরও বেশি এবং আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দুইটি। ক্রমশ এই সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয় একটি দেশের দর্শন। কারণ, এখানে মুক্ত বুদ্ধি চর্চা করা হয়। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যতটা জ্ঞান-বিজ্ঞান ও মুক্ত বুদ্ধি চর্চা হওয়ার কথা ছিল তার তুলনায় ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্ররাজনীতি, মাদক, গ্রুপিং, র্যাগিং, ছিনতাই ইত্যাদি আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গিয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা খুব একটা প্রায়োগিক নয়। কর্মজীবনেও এসব শিক্ষা ফলপ্রসূ হয় না। এছাড়াও বর্তমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে বাস্তব ও কর্মমুখী, যুগোপযোগী, কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজন। এজন্য প্রয়োজন সর্বাধুনিক গবেষণাগারের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা হতে হবে উৎপাদনমুখী, বাজার চাহিদা ও প্রযুক্তিমুখী। এজন্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন কাঠামো ও মান যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
SSC বাংলা ২য় পত্র CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · বাংলা ২য় পত্র · সৃজনশীল
বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর