(খ) মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে, হারা শশীর হারা হাসি, অন্ধকারেই ফিরে আসে।
উত্তর: ভাব-সম্প্রসারণ: জীবন একই সরল রেখায় চলে না। কখনো উত্থান, কখনো পতন, সুখ-দুঃখের দ্বন্দ্বে এগিয়ে চলে আমাদের পথচলা। ছন্দময় জীবনের পথচলার প্রতিটি ধাপেই রয়েছে নিত্যনতুন শিক্ষা, নিত্যনতুন অভিজ্ঞতা। জীবনের নানা স্তরে দুঃখ-কষ্টের নির্মম কশাঘাতে জীবন হয়ে ওঠে শুচিশুভ্র। রাত প্রকৃতির এক স্বাভাবিক চক্রের অংশ। রাত যতই দীর্ঘ বা ঘোর অন্ধকারময় হোক না কেন, প্রভাত ঠিকই আসে-আলোয় ভরা নতুন একটি দিন শুরু হয়। এটি যেমন প্রকৃতির নিয়ম তেমনই জীবনের ক্ষেত্রেও আলো-অন্ধকারের খেলা এক চিরন্তন সত্য। জীবনের সংকট, দুঃখ, দারিদ্র্য-ব্যর্থতা, নিরাশা হলো অন্ধকারের নামান্তর। আর জীবনের এসব দুঃখ-কষ্ট থেকে উত্তরণ হলো প্রভাতের সংস্পর্শে আসা। মানুষের জীবনে সুখ-দুঃখ পাশাপাশি চলে। যে সময়টা মানুষ চরম হতাশার মধ্য দিয়ে যায়, সেই সময়টা আসলে মানুষের জীবনবদলের সূচনার সময়। বিপদের চূড়ান্ত পরিণতি অনেক সময় নতুন সূচনা ডেকে আনে। ইতিহাসে এমন অনেক মহাপুরুষ আছেন যাঁদের জীবন দুঃখ-দৈন্যে জর্জরিত ছিল। কিন্তু অনেক দুঃখ-কষ্ট সহ্য করে শেষমেশ তাঁরা আলোর মুখ দেখেছেন। জীবনে অনেক সময় আসে যখন চারপাশে কেবল অন্ধকার বলে মনে হয়, সম্ভাবনার সব দরজা বন্ধ হয়ে গেছে বলে বোধ হয়। এরকম সময় হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরাই বুদ্ধিমানের কাজ। কেননা আশার আলো একদিন জ্বলবেই। জীবনের এরকম মুহূর্তে যদি কেউ হাল ছেড়ে দেয়, তবে সে কখনই সাফল্যের মুখ দেখবে না। রাত গভীর হলে আমরা জানি যে ভোর খুব কাছেই, তাই আর একটু অপেক্ষা করি। ঠিক তেমনই জীবনসংগ্রামে আমাদের অপেক্ষা করতে হয়, ধৈর্য ধরতে হয়- কারণ রাত পার হলেই প্রভাত। একজন ছাত্র যখন কঠোর পরিশ্রম করে পরীক্ষার জন্য, তখন তার মনে হয় এই কষ্টের বুঝি শেষ নেই। কিন্তু সেই কঠোর পরিশ্রমই তাকে সফলতা এনে দেয়। তাই ধৈর্যহারা না হয়ে নিরলস পরিশ্রম করে গেলে তবেই জীবনে প্রভাত আসবে, আলো আসবে। মানুষের জীবন পুষ্পশয্যা নয়। জীবনে দুঃখ-কষ্ট আসবেই। এমন সময় নিরাশায় নিমজ্জিত না হয়ে ধৈর্যধারণ করতে হবে। কেননা অন্ধকার চিরস্থায়ী নয়, কঠিন সময় পেরিয়ে জীবনে আলো আসবেই।
SSC বাংলা ২য় পত্র CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · বাংলা ২য় পত্র · সৃজনশীল
(খ) মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে, হারা শশীর হারা হাসি, অন্ধকারেই ফিরে আসে।
উত্তর