(খ) ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়; পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।
উত্তর: ভাব-সম্প্রসারণ: ক্ষুধা মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা। পেটে ক্ষুধার জ্বালা থাকলে জগতের কোনোকিছুই হৃদয়কে পুলকিত করতে পারে না। আহারতৃপ্ত মানুষের কাছে কাব্য সুধার মতো মনে হলেও, যার জঠরাগ্নি নিবৃত্ত হয়নি তার কাছে কাব্যের সৌন্দর্য কোনো অর্থই বহন করে না। ক্ষুধার্ত ব্যক্তির কাছে পৃথিবীর সবকিছু তুচ্ছ। সৌন্দর্য, ভালোবাসা, অনুভূতি কোনোকিছুর মূল্য নেই তার কাছে। খাদ্য ছাড়া কোনো মানুষ বাঁচতে পারে না। বেঁচে থাকার জন্য প্রত্যেক মানুষের মূল উপাদান হলো খাদ্য। মানুষ জীবিকা নির্বাহের জন্য দিন-রাত কাজ করে। যদি কেউ তার ক্ষুধা নিবৃত্ত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সে যেকোনো নিচু কাজ করতে বাধ্য হবে। যে ব্যক্তি ক্ষুধার্ত থাকে তার কাছে নৈতিক উপদেশ, দর্শনের কোনো মূল্য নেই। এটা স্বাভাবিক যে, ক্ষুধার্ত মানুষ সব সময়ই রাগী এবং সামান্য কারণেই বিদ্রোহ করতে পারে। ভালোবাসা, সহানুভূতি অথবা তোষামোদি কোনো কিছুই তাকে বশ করতে পারে না। কোনো উপদেশ অথবা যুক্তিবাক্য তাকে শান্ত করতে পারে না। ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে পৃথিবীর সৌন্দর্যের কোনো মূল্য নেই। সে পূর্ণিমার চাঁদকে ঝলসানো রুটি মনে করে। সে গদ্যের কাঠিন্য উপলব্ধি করতে পারলেও কাব্যের কোমলতা তার কাছে অর্থহীন। তার কাছে মূল্যবান হলো ক্ষুধা নিবারণের খাদ্য। সে সব ধরনের প্রতিষ্ঠা তা খারাপ বা ভালো এবং রাজনৈতিক বা সামাজিক যাই হোক না কেন, তার বিরোধী। সে আমাদের সমাজব্যবস্থা ধ্বংস করতে পারে। প্রতিটি মানুষের বেঁচে থাকার প্রধান অনুষঙ্গ হলো খাদ্য। জীবনে যখন মানুষের এই মৌলিক চাহিদা পূরণ না হয় তখন তার কাছ থেকে সৌন্দর্যের বোধ আশা করা যায় না। তার কাছে কাব্যের রস, পৃথিবীর সৌন্দর্য সবই শুষ্ক বলে মনে হয়।
SSC বাংলা ২য় পত্র CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · বাংলা ২য় পত্র · সৃজনশীল
(খ) ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়; পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।
উত্তর