'১৯৭১' উপন্যাসে নীলগঞ্জ গ্রামের মসজিদের ইমাম নিপীড়িত বাঙালির প্রতীক। – মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: '১৯৭১' উপন্যাসে হুমায়ূন আহমেদ গ্রামীণ বাংলার প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহকে শিল্পিতভাবে উপস্থাপন করেছেন। পাকিস্তানি মিলিটারি নীলগঞ্জ গ্রামে প্রবেশ করে গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে, ক্যাম্প স্থাপন করে এবং ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। এ উপন্যাসে মসজিদের ইমাম সাহেব একটি নির্বিরোধী চরিত্র। তিনি গ্রামের মসজিদে থাকেন এবং গ্রামের জয়নাল মিয়া ও অন্যদের বাড়িতে খাবার খান। গ্রামে মিলিটারি প্রবেশের বিষয়টি প্রথমে নজরে আসে ইমাম সাহেবের। মিলিটারি মেজরের নির্দেশে ইমাম সাহেবকে ধরে নিয়ে আসা হয় ক্যাম্পে। অত্যন্ত ধর্মভীরু ও নিরীহ এ মানুষটি পাকিস্তানি সেনাদের হাতে আটক হয়ে চরম বিচলিত হয়ে পড়েন। এর মধ্যে সেনারা নীলগঞ্জ প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক আজিজ মাস্টারকে ধরে নিয়ে আসে। তিনি টিচার্স রুমে এসে ইমামকে রক্তাক্ত ও শারীরিকভাবে নির্যাতিত অবস্থায় আবিষ্কার করেন। হানাদার বাহিনীর নির্মম নির্যাতনে ইমাম সাহেবের নাক-মুখ ফুলে গেছে, ঠোঁট কেটে গেছে, পাঞ্জাবিতে রক্তের দাগ এবং কাটা ঠোঁট দিয়ে হলুদ রঙের রস বের হচ্ছে। পাকিস্তানি সেনারা মুসলমান হওয়ায় তারা সাচ্চা মুসলিমদের ক্ষতি করে না বলে যে বিশ্বাস বাঙালিদের মনে ছিল তা ভূলুণ্ঠিত হয় ইমামের চরম নির্যাতিত অবস্থার মাধ্যমে। অর্থাৎ তারা নিরপরাধ মানুষের প্রতিও নির্দয় আচরণ করেছে। মেজরের ধারণা ছিল গ্রামের ইমাম সাহেব মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য জানেন। তাই তাকে নির্যাতন করে তথ্য বের করার চেষ্টা করে তারা। মনা ও বিরুকে হত্যা করে ইমামের মনে ত্রাসের সঞ্চার করার চেষ্টা করা হয়। ইমাম সাহেবকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে তিনি মেজরের প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেন না এবং তার প্রশ্নের বাণে ক্ষতবিক্ষত হন। মেজরের উপর্যুপরি আঘাতের পরও তিনি পাকিস্তানের পক্ষে সাফাই গাননি। তিনি বিপদ থেকে পরিত্রাণ কামনা করলেও নিজের দেশমাতৃকার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেননি। ইমাম সাহেব আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ মানুষ হলেও পাকিস্তানি সেনাদের নির্যাতনের মুখে নতি স্বীকার করেননি কিংবা নিজের মুক্তির জন্য তাদের অনুগ্রহ কামনা করেননি। পাকিস্তানিরা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে যে নিপীড়ন চালিয়েছে তা থেকে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা কেউ রেহাই পায়নি। গ্রামের মসজিদের ইমাম সাহেবকে তারা ধর্মের কারণে ছাড় দেয়নি, বরং চরম নির্যাতন করেছে। ইমাম সাহেব চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন শুধু বাঙালি হওয়ার কারণে। '১৯৭১' উপন্যাসে ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের উপর হানাদার বাহিনীর সর্বব্যাপী আগ্রাসনের চিত্র অঙ্কন করেছেন যা ইমাম সাহেবের মতো চরিত্রগুলোর মাধ্যমে উঠে এসেছে। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, '১৯৭১' উপন্যাসে নীলগঞ্জ গ্রামের মসজিদের ইমাম নিপীড়িত বাঙালির প্রতীক।- মন্তব্যটি যথার্থ।
SSC বাংলা ১ম পত্র CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · বাংলা ১ম পত্র · সৃজনশীল
'১৯৭১' উপন্যাসে নীলগঞ্জ গ্রামের মসজিদের ইমাম নিপীড়িত বাঙালির প্রতীক। – মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর