উদ্দীপকের প্রথম দুই চরণে 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতার প্রতিফলিত দিকটি হলো স্বাধীনতার জন্য জীবন বিসর্জন দেওয়া।'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় বাঙালির চির প্রত্যাশিত স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করা হয়েছে। স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘ সংগ্রাম ও জীবন বিসর্জন দেওয়ার ঘটনাও বর্ণিত হয়েছে। স্বাধীনতার জন্য লক্ষ লক্ষ নারী-পুরুষকে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। হরিদাসীর সিঁথির সিঁদুর মুছে গেছে। সাকিনা বিবির কপাল ভেঙেছে। এছাড়াও সগীর আলী, কেষ্টদাস, মতলব মিয়া ও রুস্তম শেখের মতো মানুষ মুক্তিযুদ্ধে জীবন বিসর্জন দিয়েছে। অর্থাৎ অসংখ্য নারী-পুরুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতার আগমন ঘটেছে। বাংলার মানুষের রক্তে রঞ্জিত হওয়ার পর বাংলার আকাশে স্বাধীনতার সূর্য উদিত হয়েছে। বাংলার মানুষের আত্মত্যাগ ও দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে।উদ্দীপকের কবিতাংশের প্রথম দুই চরণে বলা হয়েছে যারা দেশকে ভালোবাসে তারাই প্রকৃত দেশপ্রেমিক। তারা দেশকে ভালোবাসে বলেই যুদ্ধে যায়। আর যারা যুদ্ধে যায় তারা সবাই ফিরে আসে না। অনেকেই যুদ্ধে শহিদ হয়। অর্থাৎ যুদ্ধ মানেই মানুষের মৃত্যু, রক্তাক্ত হওয়ার এক কালজয়ী ইতিহাস। আর এ ইতিহাস গড়েছে বাংলার সর্বস্তরের মানুষ। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এদেশ শত্রুমুক্ত হয়েছে। শত্রুদের সাথে লড়াই করতে গিয়ে জীবন বিসর্জন দিতে হয়েছে। যা 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায়ও ফুটে উঠেছে। সুতরাং উদ্দীপকের প্রথম দুই চরণে 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতার স্বাধীনতার জন্য জীবন বিসর্জন দেওয়ার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।