◉ জন্মভূমির সঙ্গে মানুষের আজীবনের সম্পর্ক, আপন সত্তায় স্বদেশকে অনুভব করার বিষয়ে যোগসূত্র থাকায় “উদ্দীপকের দ্বিতীয় স্তবকে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার মূল চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
◉ 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি জন্মভূমির সঙ্গে তাঁর নিজের বন্ধন ও মানুষের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের দিকটি তুলে ধরেছেন। এখানে গ্রামীণ প্রকৃতির নানা অনুষঙ্গে কবির প্রাত্যহিক জীবনের সম্পৃক্ততার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। গ্রামের মাঠ-ঘাট, আকাশ, ফুল-পাখি, জোনাকি, পুকুর, মাছরাঙা সবই কবির বহু দিনের চেনা। তারাও তাকে ভালো করে চেনে। কবির মতো, মানুষও জন্মভূমির মধ্যে শিকড় গেড়ে থেকেই সমগ্র দেশকে আপন করে পায়।
◉ উদ্দীপকের দ্বিতীয় স্তবকে কবি তাঁর জন্মভূমি বাংলার জন্য আকুলতা ব্যক্ত করেছেন। কবি যে দেশেই থাকেন তার জন্য তিনি সদা জেগে থাকেন। জন্মভূমি তাঁর কাছে স্বর্গের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। উক্ত দিকটি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবির মধ্যেও লক্ষণীয়। কবি তাঁর জন্মভূমির সঙ্গে নিজের সম্পর্ক প্রমাণ করার জন্য এর নানা অনুষঙ্গকে সাক্ষী বানিয়েছেন। তিনি বারবার বলেছেন তিনি কোনো আগন্তুক নন, বরং জন্মভূমির প্রতিটি বস্তু ও মানুষ তাঁর চিরপরিচিত।
◉ 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় আসমান, জমিনের ফুল, জোনাকি, পুকুর, মাছরাঙা, ধানখেত- এ সবকিছুই কবির দেশের মাটির প্রতি গভীর মমতাকে আরও গভীরতর করেছে। স্বদেশের সবকিছুই কবির অস্থিমজ্জায় গ্রথিত হয়ে আছে। জন্মভূমির সঙ্গে কবির এমন গভীর সম্পর্ক এবং তার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার দিকটিই উদ্দীপকের দ্বিতীয় - স্তবকে প্রতিফলিত হয়েছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।