উদ্দীপকটি 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার মানবসৃষ্ট সভ্যতার ক্ষণস্থায়িত্ব ও প্রকৃতির চিরন্তনতার দার্শনিক দিকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় প্রকৃতির চিরন্তন রূপের ধারণাটি ফুটে উঠেছে। মানবসৃষ্ট অনেক সভ্যতা বিলীন হয়ে গেছে কিন্তু প্রকৃতি আপন রূপ-রস-গন্ধ নিয়ে চিরকাল প্রাণময়। প্রকৃতির মধ্যে বিচিত্র গন্ধের আস্বাদ, তার অন্তর্গত অফুরন্ত সৌন্দর্য কখনো শেষ হয় না। কবিতায় জীবনানন্দ দাশ প্রকৃতির এই চিরকালীন সৌন্দর্যকে বিস্ময়কর নিপুণতায় উপস্থাপন করেছেন।
উদ্দীপকে বগুড়ার মহাস্থানগড়ের ঐতিহাসিক উত্থান-পতনের মাধ্যমে মানবসৃষ্ট সভ্যতার ক্ষণস্থায়িত্ব ও প্রকৃতির চিরন্তনতার বিপরীতধর্মী চিত্র ফুটে উঠেছে। এককালের জমজমাট নগরী আজ ধ্বংসস্তূপ, যা সময়ের প্রবাহে মানবসৃষ্ট বৈভবের নশ্বরতাকেই নির্দেশ করে। তবে এর চারপাশের প্রকৃতি- আকাশ, বাতাস, পরিবেশ এখনো প্রাণবন্ত, যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নিরবধি প্রবাহকে প্রতীকী করে। এই বক্তব্য 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার মূলভাবেরই প্রতিধ্বনি। উভয় ক্ষেত্রেই মানবিক অহংকার, ইতিহাসের উত্থান-পতনকে প্রকৃতির স্থায়ী সৌন্দর্যের বিপরীতে রাখা হয়েছে, যা কবিতায় কবির বক্তব্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।