◉ মানুষ ও মানুষের তৈরি সভ্যতা ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে, প্রকৃতির সবকিছুই অবিকল একই থাকবে- এই দিক থেকে দৃশ্যকল্প-২ 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার মূল আলোচ্য বিষয়।
◉ 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি একদিকে সভ্যতার ক্ষয়িষ্ণু অবস্থা এবং অন্যদিকে বিনির্মাণের কথা বলেছেন। তিনি জগতের চিরন্তন, সত্য নির্দেশ করতে গিয়ে বলেছেন যে, পৃথিবীতে মানুষ মরণশীল, কিন্তু মানুষের স্বপ্ন অমর। মানুষ ও মানুষের তৈরি সভ্যতা ধ্বংস হলেও প্রকৃতি টিকে থাকে। প্রকৃতির ধ্বংস বা বিনাশ নেই। প্রকৃতি তার আপন রূপ-রস-গন্ধ নিয়ে চির প্রবহমান। প্রকৃতি তার আপন রূপ-রস-গন্ধ নিয়ে চিরকাল প্রাণবন্ত থাকে। মানব ও মানবসৃষ্ট সবকিছু। একদিন ধ্বংস হলেও প্রকৃতি চিরস্থায়ী। প্রকৃতি জগতের সবকিছুই চলছে অবিকল ধারায় চলমান থাকবে, শুধু মানুষ কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে।
◉ দৃশ্যকল্প-২-এ প্রকৃতি জগতে যথানিয়মে সবকিছু চলমান থাকার কথা বলা হয়েছে। পথের ধারে রাখাল ছেলের বাঁশি বাজানো, নদীর - কূলে গরু চড়ানো; উঠোনে বসে শিশুর খেলা করা যথারীতি চলতেই থাকবে। পাখিদের গানও থাকবে। এসবের মধ্য দিয়ে দিন কেটে যাবে। দৃশ্যকল্প-২-এর এই দিকটির সঙ্গে 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার মূল বিষয়টি সাদৃশ্যপূর্ণ। কবি এ কবিতায় প্রকৃতির চির প্রবহমানতার কথা বলেছেন। কবির মতে প্রকৃতি চিরস্থায়ী, অবিনশ্বর। মানুষ ও মানুষের তৈরি সভ্যতা ক্ষণস্থায়ী।
◉ 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবি মানবজীবন, মানবসৃষ্ট সভ্যতা বিলীন হওয়ার কথা এবং প্রকৃতির চিরন্তন হয়ে থাকার কথা বলেছেন। দৃশ্যকল্প-২-এ এই ব্যস্ততারই প্রতিফলন ঘটেছে। এভাবে দৃশ্যকল্প-২ 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার মূল আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।