“কোনো বিবর্তনই প্রকৃতির চিরায়ত রূপকে মলিন করতে পারে না।"- এই উক্তির আলোকে 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতাটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অবিনশ্বরতার দিকটি বিবেচনায় বলা যায়-"কোনো বিবর্তনই প্রকৃতির চিরায়ত রূপকে মলিন করতে পারে না।" মন্তব্যটি যথাযথ। 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় প্রকৃতির চিরকালীন সৌন্দর্যের মধ্যে সভ্যতার ধ্বংস ও বিনির্মাণের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। মানুষ এবং মানুষের তৈরি সভ্যতা নশ্বর হলেও প্রকৃতি অবিনশ্বর। মরণশীল মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে কিন্তু প্রকৃতিতে থাকে চিরকালের ব্যস্ততা।সভ্যতা একদিকে যেমন ক্ষয়িষ্ণু অন্যদিকে চলে তার বিনির্মাণ। উদ্দীপকেও কবিতার মতো প্রকৃতির চিরকালীন সৌন্দর্যের কথা বলা হয়েছে। বগুড়ার মহাস্থানগড় এখন ধ্বংসপ্রাপ্ত। কিন্তু এর চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ তার নিরবধি সৌন্দর্য ও প্রাণচাঞ্চল্য বজায় রেখেছে। এই দিকটি 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার প্রকৃতির স্থায়িত্ব এবং মানবসভ্যতার নশ্বরতার মধ্যকার দার্শনিক দ্বন্দ্বকে সরলভাবে উপস্থাপন করে। 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় জীবনানন্দ দাশ বলেছেন- প্রকৃতির রহস্যময় আনন্দ ও সৌন্দর্যের শেষ নেই। প্রকৃতি চির প্রবহমান। প্রকৃতির অফুরন্ত সৌন্দর্যের গল্প চিরকাল বেঁচে রবে, মানুষকে আনন্দ দেবে। মানুষের গড়া পৃথিবীর অনেক সভ্যতা বিলীন হয়ে গেছে, রয়ে গেছে শুধু প্রকৃতি। তিনি জানেন- বিচিত্র বিবর্তনের মধ্যেও প্রকৃতি তার রূপ-রস-গন্ধ কখনই হারিয়ে ফেলবে না। উদ্দীপকের প্রকৃতির এই মৌলিক সত্তার কথা বলা হয়েছে। প্রকৃতি কোনো বিবর্তন, যুদ্ধ, ধ্বংস বা সময়ের পরিবর্তনে ম্লান হয় না। সভ্যতা যেমন ক্ষয়িষ্ণু অন্যদিকে প্রকৃতিতে চলে তার বিনির্মাণ। এই গল্প হলো প্রকৃতির অনন্ত কাহিনি; যা মানব ইতিহাসের উত্থান-পতনের মধ্য দিয়েও অব্যাহত থাকে। তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি কবিতার সার্বিক ভাবকে প্রকাশ করেছে।
SSC বাংলা ১ম পত্র CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · বাংলা ১ম পত্র · সৃজনশীল
“কোনো বিবর্তনই প্রকৃতির চিরায়ত রূপকে মলিন করতে পারে না।"- এই উক্তির…
উদ্দীপক
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর