"বুড়ো হওয়ার অনেক যন্ত্রণা। অনেক কষ্ট।” এই মন্তব্যের আলোকে মীর আলির জীবনবাস্তবতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: "বুড়ো হওয়ার অনেক যন্ত্রণা। অনেক কষ্ট।” এ কথাটি বলা হয়েছে বৃদ্ধ মীর আলি সম্পর্কে। সে সত্তর বছর বয়সি মানুষ, চোখে দেখে না। আগে কিছুটা দেখতে পেত, কিন্তু দুই বছর যাবৎ আর তাও পায় না। তবে সে কানে শুনতে পায়। তার সবচেয়ে বড়ো যন্ত্রণা হলো রাতদুপুরে বাইরে যেতে হয়। কিন্তু সে একা যেতে পারে না। অন্য কারও সাহায্যের প্রয়োজন হয়। কখনো তার ছেলে বদি তাকে নিয়ে যায়, আবার কখনো নিয়ে যায় পুত্রবধূ অনুফা। এরকমই এক রাতে মীর আলির বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হয় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য। তখন সে তার ছেলে বদিকে ডাকে। কিন্তু বদি দোকান থেকে পরিশ্রম করে আসার ফলে গভীর ঘুমে তলিয়ে যায়। তাই অনুফাই তাকে বাইরে নিয়ে যায়। অনুফা তাকে হাত ধরে বাইরে নিয়ে যাচ্ছিল বলে মীর আলির বড়ো লজ্জা লাগে। পুত্রবধূ হয়ে শ্বশুরের হাত ধরে বাইরে নিয়ে যাওয়া অনুফার জন্য যতটা লজ্জাজনক, মীর আলির কাছে তার চেয়েও বেশি। কিন্তু তার কাছে অন্য কোনো উপায়ও ছিল না। বাইরে থেকে আসার কিছু সময় পর আবারও মীর আলির তলপেট ভারী হয়ে ওঠে। তাকে আবারও বাইরে যেতে হবে। সেবারেও সে বদিকে ডাকে, কিন্তু বদি আসতে আসতে দেরি হয়ে যাওয়ায় সে নিজের অজান্তেই বিছানায় প্রস্রাব করে ফেলে, যা তাকে খুবই অস্বস্তি বোধ করায়। কারণ এর আগে এরকম আর কখনো হয়নি। ছেলে, ছেলের বউও তার খেয়াল রাখতে রাখতে একসময় বিরক্ত হয়ে পড়ে, যা আমরা দেখতে পাই বদির উক্তিতে। গভীর রাতে বাইরে যাওয়ার সময় বদি যখন বলে, “এখন থাইকা ঘরের মইধ্যে পেশাব করবেন। ঝামেলা ভালো লাগে না", তখনই বোঝা যায় বদি মীর আলির ওপর বিরক্ত। বৃদ্ধ মীর আলি তার বয়সের ভারে অনেক কিছুই নিজে করতে পারে না। যার জন্য সে পরনির্ভরশীল, যা মীর আলিকে বিচলিত করে তোলে। নিজের কাছেই তার নিজেকে বিরক্তিকর মনে হয়। বৃদ্ধ মীর আলি হলো আলোচ্য উপন্যাসে গ্রামীণ প্রবীণ পিতার প্রতিনিধি। যারা বয়স হলে সংসারের বোঝায় পরিণত হয়। এজন্যই লেখক মূলত প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
SSC বাংলা ১ম পত্র CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · বাংলা ১ম পত্র · সৃজনশীল
"বুড়ো হওয়ার অনেক যন্ত্রণা। অনেক কষ্ট।” এই মন্তব্যের আলোকে মীর আলির জীবনবাস্তবতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর