উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলোর সামাজিক ও পারিবারিক প্রেক্ষাপট আলোচনা করো।
উত্তর: প্রত্যেক জাতির জাতিগত ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে তাদের মুক্তিসংগ্রাম গুরুত্ব পেয়েছে। নানা দৃষ্টিকোণ থেকে রচিত হয়েছে সেই বিজয়গাথার ইতিহাস। কবি-সাহিত্যিকরা সেই ইতিহাসের বাস্তব ভূমিতে দাঁড়িয়ে তাদের সেই গৌরবগাথা থেকে সৃষ্টি করেছেন কাব্য-উপন্যাস গল্প-নাটক। বাঙালি জাতির জীবনে তেমনই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। হুমায়ূন আহমেদের '১৯৭১' উপন্যাস বাঙালির সেই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসেরই বাস্তব রূপায়ণ। '১৯৭১' উপন্যাসের চরিত্র সৃষ্টিতে হুমায়ূন আহমেদ বাস্তবধর্মী নির্মোহ মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। এ উপন্যাসের প্রধান-অপ্রধান, নায়ক-খল কিংবা কেন্দ্রীয় ও পার্শ্ব- সকল চরিত্রের কর্মকাণ্ড ও মনোভাব সূক্ষ্ম কার্যকরণ সম্পর্কে যুক্ত। এক্ষেত্রে লেখক মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থানকারী পাকিস্তানি মেজরকেও বাস্তবতার নিরিখে নির্মাণ করেছেন। '১৯৭১' উপন্যাসের চরিত্রগুলোর কর্মকাণ্ড তাদের সামাজিক ও পারিবারিক বাস্তব সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এ উপন্যাসের প্রধান ও খল চরিত্র মেজর এজাজ, যিনি কাকুল মিলিটারি একাডেমির কৃতী ক্যাডেট, বাড়ি পেশোয়ারের অখ্যাত এক গ্রাম রেশোবাতে। এই মেজরের চরিত্রচিত্রণেও লেখক নিরাসক্তি ও সুমিতির ব্যাপারে প্রত্যয়ী। লেখক বলে দিচ্ছেন, রেশোবা গ্রামে মীর আলির সমবয়সি বৃদ্ধ পিতা আছে তার। এজন্য এজাজ বৃদ্ধ মীর আলিকে সালাম জানিয়েছে। মেজর এজাজ বাঙালিদের ওপর যে অত্যাচার করেছে, সেটিও তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যেই এ উপন্যাসের নানা চরিত্রের মানসিকতা ও বিশ্বাসের বিবর্তন বাস্তবতার সহযোগে উপস্থাপন করেছেন লেখক হুমায়ূন আহমেদ। এমন একটি বিবর্তমান চরিত্র সফদরউল্লাহ। '১৯৭১' উপন্যাসের সফদরউল্লাহ একটি অপ্রধান চরিত্র। গ্রামের সাধারণ মানুষ নীলগঞ্জে মিলিটারির আগমনে তটস্থ। ঘরে তার স্ত্রী ও কিশোরী শ্যালিকাকে নিয়ে ভয় ছিল তার। তাই সে গ্রামের সম্পদশালী ব্যক্তি জয়নাল মিয়ার কাছে স্ত্রী-শ্যালিকাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ করতে আসে। কিন্তু জয়নাল মিয়া জানায়, মিলিটারিরা মুসলিমদের ক্ষতি করে না। জয়নাল মিয়ার অভয়বাণী সফদরউল্লাহকে সাহস জোগায়। সফদরউল্লাহর অনুপস্থিতিতে ঝড়ের সময় এক মিলিটারি সুবাদার ও তিনজন রাজাকারের একটি ছোটো দল তার বাড়িতে প্রবেশ করে তার স্ত্রী ও শ্যালিকাকে দেখতে পায়। পুরুষহীন নির্জন বাড়িতে স্ত্রী লোকদের নির্যাতন করার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। এতে সফদরউল্লাহর স্ত্রী ও শ্যালিকা নির্যাতনের শিকার হয়। বাড়ি ফিরে সফদরউল্লাহ নির্যাতিত স্ত্রী ও শ্যালিকাকে দেখে তার মানসিক পরিবর্তন ঘটে। মিলিটারি ও রাজাকারদের প্রতি সে ক্ষিপ্ত হয়। হাতে দা নিয়ে সশস্ত্র সফদরউল্লাহ রাজাকার ও মিলিটারি সুবাদারকে হত্যার উদ্দেশ্যে খুঁজতে গভীর রাতে রওয়ানা হয়। সফদরউল্লাহ নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর প্রতিবাদী হয়ে ওঠার প্রতীকী চরিত্র। এ চরিত্রের মাধ্যমে লেখক বাঙালির প্রতবাদী সত্তা প্রকাশ করেছেন।
SSC বাংলা ১ম পত্র CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · বাংলা ১ম পত্র · সৃজনশীল
উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলোর সামাজিক ও পারিবারিক প্রেক্ষাপট আলোচনা করো।
উত্তর