"অনুফা এ সংসারে ভাগ্য নিয়ে এসেছে"- উক্তিটি পর্যালোচনা করো।
উত্তর: '১৯৭১' হুমায়ূন আহমেদ রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংসতার প্রামাণ্য দলিল যেন এই উপন্যাসটি। '১৯৭১' উপন্যাসের আখ্যানভাগ গড়ে উঠেছে নীলগঞ্জ গ্রামকে কেন্দ্র করে। নীলগঞ্জ গ্রামে পাকিস্তানি মিলিটারির আগমন ও নৃশংসতা আলোচ্য উপন্যাসের প্রধান বিষয় হলেও লেখক প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনাচার, তাদের বিশ্বাস এই বিষয়গুলোও তুলে ধরেছেন। নীলগঞ্জ গ্রামের অবস্থা খুবই অনুন্নত। সেই গ্রামে রয়েছে শ্রীহীন চল্লিশ-পঞ্চাশটি ঘর। গ্রামের অন্যতম একজন বাসিন্দা হলো মীর আলি। মীর আলির পুত্রবধূ হলো অনুফা, বদিউজ্জামানের স্ত্রী সে। মীর আলি আলোচ্য উপন্যাসের বয়োবৃদ্ধ চরিত্র। গ্রামীণ বৃদ্ধ ব্যক্তির প্রতিনিধি হিসেবে লেখক তাকে অঙ্কন করেছেন। গ্রামের বৃদ্ধদের মধ্যে যেমন নানা সংস্কার ও বিশ্বাস থাকে, মীর আলির মধ্যেও তাই। "অনুফা এ সংসারে ভাগ্য নিয়ে এসেছে"- উক্তিটি মূলত মীর আলির মনের ভাবনা। একদিন কাশির মাঝে চা খেতে খুব ইচ্ছে করলে অনুফা মীর আলিকে চা করে দেয়। আর এতেই তার প্রতি মমত্ববোধ বেড়ে যায় মীর আলির। আর তখনই এ উক্তিটির জন্ম। মীর আলির মতে, অনুফার বিয়ে হয়ে আসার পর থেকে সংসারের যাবতীয় মঙ্গল সাধিত হয়েছে, যা পূর্বে হয়নি। সংসারের আয়-উন্নতি বেড়েছে। নতুন সাইকেল আছে, নতুন চামচ আছে। তাকে গত বছর নতুন লেপ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি মীর আলির মনে পড়ে, অনুফা আসার পর থেকে তাদের পরিবার এমন কোনো দিন ছিল না যে তারা এক বেলা না খেয়ে থেকেছে। উপর্যুক্ত কথাগুলো হলো এক বৃদ্ধ লোকের তার পুত্রবধূর সম্পর্কে হঠাৎ মমত্ববোধ জেগে ওঠায় যে ধারণা বা ভাবনা, তার প্রস্ফুটন। এটাই মীর আলির বিশ্বাস। মীর আলির এই বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে গ্রামীণ বৃদ্ধদের বিশ্বাসের দিকটি প্রতীয়মান হয়েছে। সুলক্ষণ ও কুলক্ষণ কেন্দ্রিক নানা বিশ্বাস গ্রামে প্রচলিত থাকে। মীর আলির অনুফাকে নিয়ে করা প্রশ্নোক্ত কথাটির মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন পুত্রবধূর প্রতি মমত্ববোধের প্রকাশ অন্যদিকে তেমন নীলগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দাদের সংস্কার ও বিশ্বাসের প্রকাশ ঘটেছে।
SSC বাংলা ১ম পত্র CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · বাংলা ১ম পত্র · সৃজনশীল
"অনুফা এ সংসারে ভাগ্য নিয়ে এসেছে"- উক্তিটি পর্যালোচনা করো।
উত্তর