"আপনি এখন আমার কোনো কথাই বিশ্বাস করবেন না"- মেজর এজাজ কর্তৃক রফিককে বিশ্বাস না করার কারণ কী? বিস্তারিত আলোচনা করো।
উত্তর: "আপনি এখন আমার কোনো কথাই বিশ্বাস করবেন না"- মেজর এজাজ রফিককে সন্দেহ করায় তার উপর থেকে বিশ্বাস উঠে গেছে। তাই এখন রফিকের আর কোনো কথাই এজাজের বিশ্বাস হবে না। বিশ্বাস বিষয়টিই এমন। একবার কারও ওপর থেকে বিশ্বাস উঠে গেলে, বা তার প্রতি সন্দেহ জন্মালে তখন আর তার কোনো কথাই অকপটে নির্দ্বিধায় মন থেকে মেনে নেওয়া যায় না, সন্দেহ দানা বাঁধতে থাকে। নীলগঞ্জ গ্রামে রফিকের প্রবেশ পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে। রফিক ছিল মেজর এজাজের দোভাষী। স্বল্প ও স্পষ্ট কথার মানুষ হওয়ায় সে ছিল মেজর এজাজের একান্ত বিশ্বস্ত সহযোগী। মেজর এজাজ নির্দ্বিধায় রফিককে বিশ্বাস করত এবং সকল বিষয়ে তার পরামর্শকে গুরুত্বের সাথে দেখত। '১৯৭১' উপন্যাসের শেষের দিকে মেজর এজাজ যখন আজিজ মাস্টার ও ইমাম সাহেবের কাছ থেকে 'মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য বের করতে ব্যর্থ হয়, তখন সে গ্রামের উঠতি ধনী জয়নাল মিয়াকে ধরে আনে। ভয়ে জয়নাল মিয়া কৈবর্তপাড়ায় আশ্রয় নেওয়া অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা এবং মধুবন জঙ্গলে অবস্থানরত ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মুক্তিযোদ্ধাদের কথা বলে দেয়। তখন থেকেই মেজর এজাজ রফিককে সন্দেহ করে। কারণ মেজর এজাজ কৈবর্তপাড়ায় তল্লাশি করতে চাইলে রফিক তাকে নিবৃত্ত করে। নিজাম খুশি মনে মধুবন জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এলে মেজর এজাজের সন্দেহ হয়। রফিক সেটিও পাগলের কর্মকাণ্ড বলে উড়িয়ে দেয়। শেষমেশ মেজর এজাজ রফিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এবং বিশ্বাসঘাতকার শাস্তি দিতে ফায়ারিং স্কোয়াডে দাঁড় করায়। রফিক তাতে মোটেই ভয় পায় না। মেজর এজাজ তাকে একের পর এক প্রশ্ন করলে সে জবাবে বলে "আপনি এখন আমার কোনো কথাই বিশ্বাস করবেন না।” মেজর এজাজের রফিকের প্রতি সন্দেহ এবং বিশ্বাসঘাতকতা নমুনাই প্রকাশ করেছে আলোচ্য উক্তিটিতে। মানুষ একবার যাকে সন্দেহ করে তার কথা আর কখনই নির্দ্বিধায় বিশ্বাস করে না। তার মধ্যে থেকে যায় সন্দেহের একাধিক আশঙ্কা।
SSC বাংলা ১ম পত্র CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · বাংলা ১ম পত্র · সৃজনশীল
"আপনি এখন আমার কোনো কথাই বিশ্বাস করবেন না"- মেজর এজাজ কর্তৃক রফিককে বিশ্বাস না করার কারণ কী? বিস্তারিত আলোচনা করো।
উত্তর