শেয়ারFacebookWhatsApp

নিস্তরঙ্গ গ্রামীণ জীবনে যুদ্ধের বর্বরতা '১৯৭১' উপন্যাসে কীভাবে রূপায়িত হয়েছে তা বিশ্লেষণ করো।

উত্তর: হুমায়ূন আহমেদ রচিত '১৯৭১' উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে ১৯৭১ সালে সংঘটিত বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায় হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের মহান স্বাধীনতা। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় পটভূমি ছোট্ট নীলগঞ্জ গ্রামে পাকিস্তানি মিলিটারি মেজর এজাজের নেতৃত্বে সংঘটিত নিষ্ঠুরতা ও বর্বরতার প্রতিচ্ছবি উঠে এসেছে এ উপন্যাসে। নীলগঞ্জের নিস্তরঙ্গ জীবনে যুদ্ধের নিষ্ঠুরতা ও বর্বরতা '১৯৭১' উপন্যাসে ধরা দিয়েছে বাস্তবতার নিরিখেই। '১৯৭১' উপন্যাসে লেখক জনবিচ্ছিন্ন ক্ষুদ্র শান্ত একটি গ্রামকে উপন্যাসের কেন্দ্রীয় পটভূমি করে তুলেছেন। শহর থেকে অনেকটা দূরে অবস্থিত এ গ্রামটির নাম নীলগঞ্জ। জঙ্গলা মাঠের পেছনে নীলগঞ্জ গ্রামের অবস্থান। দরিদ্র শ্রীহীন, ত্রিশ-চল্লিশ ঘরের এই বিচ্ছিন্ন জনপদটি কাস্তের মতো দুদিক থেকে ঘিরে রেখেছে বিস্তীর্ণ জলাভূমি। গ্রামের অধিকাংশ ঘরে খড়ের ছাউনি, সম্প্রতি কয়েকটি টিনের ঘর হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, গ্রামের মানুষ খুব বেশি অবস্থাসম্পন্ন নয়। গ্রামের মানুষ তাদের জীবন ও জীবিকা নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করে। যুদ্ধ বা সংগ্রাম বুঝে ওঠার সময় বা সুযোগ-কোনোটাই তাদের হাতে নেই। অথচ সেই গ্রামেই একদিন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আগমনে নেমে আসে চরম বিপর্যয়। লেখক উপন্যাসের কোথাও স্পষ্ট করে বলেনি যে, গ্রামে মুক্তিবাহিনী আছে। কিন্তু সন্দেহের বেড়াজাল বুনে দিয়েছেন উপন্যাসজুড়ে। এই সন্দেহের বশেই নীলগঞ্জ গ্রামে হানাদার বাহিনীর অধিনায়ক মেজর এজাজের নেতৃত্বে অভিযান শুরু হয় এবং নির্মমতা, নিষ্ঠুরতা ও বর্বরতার মধ্য দিয়ে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে নীলগঞ্জের জীবনচিত্র। উপন্যাসের কাহিনিতে বলা হয়েছে, নীলগঞ্জ গ্রামে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একদল জোয়ান পাকিস্তানি এক সেনাকে বন্দি করেছে,যার নাম মেজর বখতিয়ার। তাকে উদ্ধার করতেই মেজর এজাজ এ গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযানে প্রথম থেকেই তারা গ্রামবাসীর উপর 'আগ্রাসী হয়ে ওঠে। প্রাইমারি স্কুলের হেডমাস্টার আজিজকে ধরে এনে অমানবিক অত্যাচার করে এবং গুলি করে হত্যা করে। এছাড়াও তারা অসংখ্য বর্বরোচিত ঘটনা ঘটায়। গ্রামবাসীকে ভয়ভীতি দেখানোর জন্য এবং ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে কৈবর্ত মনা ও বিরুকে সবার সামনে গুলি করে হত্যা করে, সম্ভ্রান্ত হিন্দু নীলু সেনকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে তার নিজের বাড়িতেই হত্যা করে। নীলগঞ্জকে কাস্তের মতো ঘিরে রাখা জঙ্গলা মাঠের বিলকে তারা বধ্যভূমি হিসেবে ব্যবহার করে এবং তাদের নিষ্ঠুরতার চূড়ান্ত রূপ দেখায়। নীলগঞ্জের মানুষের সহজ-সরল ও নির্ভেজাল জীবনে এভাবেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতা চলতে থাকে যা পাঠকের সামনে সরাসরি দৃশ্য হয়ে ধরা দেয়। তাই বলা যায়, '১৯৭১' উপন্যাসে নীলগঞ্জের নিস্তরঙ্গ জীবনে যুদ্ধের বর্বরতা জীবন্ত হয়ে উঠেছে।

SSC বাংলা ১ম পত্র CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক

SSC · বাংলা ১ম পত্র · সৃজনশীল

নিস্তরঙ্গ গ্রামীণ জীবনে যুদ্ধের বর্বরতা '১৯৭১' উপন্যাসে কীভাবে রূপায়িত হয়েছে তা বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

হুমায়ূন আহমেদ রচিত '১৯৭১' উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে ১৯৭১ সালে সংঘটিত বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায় হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের মহান স্বাধীনতা। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় পটভূমি ছোট্ট নীলগঞ্জ গ্রামে পাকিস্তানি মিলিটারি মেজর এজাজের নেতৃত্বে সংঘটিত নিষ্ঠুরতা ও বর্বরতার প্রতিচ্ছবি উঠে এসেছে এ উপন্যাসে। নীলগঞ্জের নিস্তরঙ্গ জীবনে যুদ্ধের নিষ্ঠুরতা ও বর্বরতা '১৯৭১' উপন্যাসে ধরা দিয়েছে বাস্তবতার নিরিখেই। '১৯৭১' উপন্যাসে লেখক জনবিচ্ছিন্ন ক্ষুদ্র শান্ত একটি গ্রামকে উপন্যাসের কেন্দ্রীয় পটভূমি করে তুলেছেন। শহর থেকে অনেকটা দূরে অবস্থিত এ গ্রামটির নাম নীলগঞ্জ। জঙ্গলা মাঠের পেছনে নীলগঞ্জ গ্রামের অবস্থান। দরিদ্র শ্রীহীন, ত্রিশ-চল্লিশ ঘরের এই বিচ্ছিন্ন জনপদটি কাস্তের মতো দুদিক থেকে ঘিরে রেখেছে বিস্তীর্ণ জলাভূমি। গ্রামের অধিকাংশ ঘরে খড়ের ছাউনি, সম্প্রতি কয়েকটি টিনের ঘর হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, গ্রামের মানুষ খুব বেশি অবস্থাসম্পন্ন নয়। গ্রামের মানুষ তাদের জীবন ও জীবিকা নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করে। যুদ্ধ বা সংগ্রাম বুঝে ওঠার সময় বা সুযোগ-কোনোটাই তাদের হাতে নেই। অথচ সেই গ্রামেই একদিন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আগমনে নেমে আসে চরম বিপর্যয়। লেখক উপন্যাসের কোথাও স্পষ্ট করে বলেনি যে, গ্রামে মুক্তিবাহিনী আছে। কিন্তু সন্দেহের বেড়াজাল বুনে দিয়েছেন উপন্যাসজুড়ে। এই সন্দেহের বশেই নীলগঞ্জ গ্রামে হানাদার বাহিনীর অধিনায়ক মেজর এজাজের নেতৃত্বে অভিযান শুরু হয় এবং নির্মমতা, নিষ্ঠুরতা ও বর্বরতার মধ্য দিয়ে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে নীলগঞ্জের জীবনচিত্র। উপন্যাসের কাহিনিতে বলা হয়েছে, নীলগঞ্জ গ্রামে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একদল জোয়ান পাকিস্তানি এক সেনাকে বন্দি করেছে,যার নাম মেজর বখতিয়ার। তাকে উদ্ধার করতেই মেজর এজাজ এ গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযানে প্রথম থেকেই তারা গ্রামবাসীর উপর 'আগ্রাসী হয়ে ওঠে। প্রাইমারি স্কুলের হেডমাস্টার আজিজকে ধরে এনে অমানবিক অত্যাচার করে এবং গুলি করে হত্যা করে। এছাড়াও তারা অসংখ্য বর্বরোচিত ঘটনা ঘটায়। গ্রামবাসীকে ভয়ভীতি দেখানোর জন্য এবং ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে কৈবর্ত মনা ও বিরুকে সবার সামনে গুলি করে হত্যা করে, সম্ভ্রান্ত হিন্দু নীলু সেনকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে তার নিজের বাড়িতেই হত্যা করে। নীলগঞ্জকে কাস্তের মতো ঘিরে রাখা জঙ্গলা মাঠের বিলকে তারা বধ্যভূমি হিসেবে ব্যবহার করে এবং তাদের নিষ্ঠুরতার চূড়ান্ত রূপ দেখায়। নীলগঞ্জের মানুষের সহজ-সরল ও নির্ভেজাল জীবনে এভাবেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতা চলতে থাকে যা পাঠকের সামনে সরাসরি দৃশ্য হয়ে ধরা দেয়। তাই বলা যায়, '১৯৭১' উপন্যাসে নীলগঞ্জের নিস্তরঙ্গ জীবনে যুদ্ধের বর্বরতা জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
SSCবাংলা ১ম পত্র
12টি সম্পর্কিত প্রশ্ন — ব্যাখ্যা লকড

1.রাখিবন্ধন কখন অনুষ্ঠিত হয়?

Dinajpur · 2016

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

2.কবি কোথায় অমর-আলয় রচনা করতে চেয়েছেন?

Dinajpur · 2016

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

3.চতুর্দশপদী কবিতার অষ্টকে থাকে-

Dinajpur · 2016

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

4.'নীল কমলেরা' বলতে বোঝায়-

Dinajpur · 2016

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

5.উদ্দীপকটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও: আবু মুসা আব্দুল্লাহ আফগানিস্তানের অধিবাসী হলেও সে বিদেশি সেনাবাহিনীর গুপ্তচর হিসেবে কাজ করে। আফগানিস্তানী যোদ্ধাদের বিভিন্ন অবস্থান সম্পর্কে সে বিদেশি বাহিনীকে নানা রকম তথ্য প্রদান করে। বিদেশি বাহিনি তার স্বজাতীয় ভাইদের হত্যা করলেও তার বিন্দুমাত্র খারাপ লাগে না। Q. উদ্দীপকের সাথে কাকতাড়ুয়া উপন্যাসের সাদৃশ্যপূর্ণ ভাব হলো- i. ভিনদেশিদের অত্যাচার ii. দেশীয় কতিপয় লোকদের বিশ্বাসঘাতকতা iii. যুদ্ধের ভয়াবহতা নিচের কোনটি সঠিক?

Dinajpur · 2016

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

6.উদ্দীপকটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও: আবু মুসা আব্দুল্লাহ আফগানিস্তানের অধিবাসী হলেও সে বিদেশি সেনাবাহিনীর গুপ্তচর হিসেবে কাজ করে। আফগানিস্তানী যোদ্ধাদের বিভিন্ন অবস্থান সম্পর্কে সে বিদেশি বাহিনীকে নানা রকম তথ্য প্রদান করে। বিদেশি বাহিনি তার স্বজাতীয় ভাইদের হত্যা করলেও তার বিন্দুমাত্র খারাপ লাগে না। Q. উদ্দীপকের আবু মুসা আব্দুল্লাহ 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের কোন চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে?

Dinajpur · 2016

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

7.কবি 'স্বপ্নকে' কীসের সাথে তুলনা করেছেন?

Dinajpur · 2016

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

8.বহিপীর কথ্যভাষা ব্যবহার না করার কারণ-

Dinajpur · 2016

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

9.মা ছেলের কোঁচে বেথুল বেঁধেছেন কেন?

Dinajpur · 2016

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

10.তিতুমীর কত সালে শহিদ হন?

Dinajpur · 2016

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

11.নদীতে তাহেরা কেবলই কী দেখতে পায়?

Dinajpur · 2016

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

12.শুনহ মানুষ ভাই সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই। উদ্দীপকের বিষয়বস্তুর সাথে তোমার পঠিত কোন রচনার সাদৃশ্য রয়েছে?

Dinajpur · 2016

ব্যাখ্যা দেখতে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো

ফ্রি শুরু করো

আরো প্রশ্ন দেখো

আরো হাজারো প্রশ্ন + মডেল টেস্ট

ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করো — ফেভারিট, AI টিউটর, লিডারবোর্ড ও অ্যানালিটিক্স আনলক করো।