'১৯৭১' উপন্যাসের নামকরণের সার্থকতা যাচাই করো।
উত্তর: '১৯৭১' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। এ উপন্যাসে লেখক ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক সত্য তুলে ধরেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচার, নিপীড়ন ও ধ্বংসযজ্ঞের বর্ণনা এতে প্রকাশ পাওয়ায় নামকরণ হিসেবে '১৯৭১' নামটি সার্থকতা পেয়েছে। '১৯৭১' উপন্যাসের নামকরণ হয়েছে ১৯৭১ সালকে অবলম্বন করে। ঐতিহাসিকভাবে ১৯৭১ সাল জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ সময়। নানা আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সূচিত হয় এই বছরটি। ১৯৭০-এর নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করলেও তাৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান সরকার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা করে। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনী পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক ঢাকায় গণহত্যা শুরু করে। অগণিত নিরপরাধ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে, বাড়ি-ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। এরই মধ্য দিয়ে সূচিত হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ নয় মাস মুক্তিযুদ্ধ চলে। এ যুদ্ধে অগণিত মানুষ আত্মদান করে, শ্লীলতাহানির শিকার হন লাখো মা-বোন, আহত ও বিকলাঙ্গ হন অগণিত বাংলাদেশি। '১৯৭১' উপন্যাসটি ১৯৭১ সালের ভয়াল অধ্যায়ের ওপর ভিত্তি করেই রচিত হয়েছে। '১৯৭১' উপন্যাসে, লেখক নিস্তরঙ্গ গ্রাম নীলগঞ্জে পাকিস্তানি বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞের রূপটি তুলে ধরেছেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালের ১ মে গভীর রাতে নীলগঞ্জ গ্রামে প্রবেশ করে। অসামরিক গ্রামে তারা তাণ্ডবলীলা শুরু করে। গ্রামের ক্ষয়িষ্ণু জমিদার নীলু সেনকে তারা নির্মমভাবে হত্যা করে। আজিজ মাস্টার ও ইমাম সাহেবের ওপর চালায় অকথ্য অত্যাচার, সফদরউল্লাহর স্ত্রী ও শ্যালিকাকে ধর্ষণ করে, গ্রামের স্বাভাবিক জনজীবনে সৃষ্টি করে ত্রাসের রাজত্ব। এর বিরুদ্ধে বাঙালিও প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। সফদরউল্লাহ প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে, আজিজ মাস্টার অপমানজনক শাস্তির পরিবর্তে মৃত্যুকে বেছে নেয়। মেজর এজাজের একতরফা অপশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে দেশপ্রেমিক রফিক। রফিকের চেতনায় ধরা পড়ে পাকিস্তানি বাহিনীর সুনিশ্চিত পরাজয়। অতএব, '১৯৭১' উপন্যাসে ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ঘটনার ছায়াপাত ঘটেছে। তাই নামকরণ হিসেবে '১৯৭১' নামটি সার্থক।
SSC বাংলা ১ম পত্র CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · বাংলা ১ম পত্র · সৃজনশীল
'১৯৭১' উপন্যাসের নামকরণের সার্থকতা যাচাই করো।
উত্তর