'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের সর্বজয়া চরিত্রে বাঙালি মায়ের যে শাশ্বত রূপের প্রতিফলন ঘটেছে, তার সঙ্গে মিল থাকায় “উদ্দীপকের আনোয়ারা বেগম যেন 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের সর্বজয়ার যথার্থ প্রতিনিধি” মন্তব্যটি যথার্থ।
'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের শাশ্বত এক মাতৃরূপ সর্বজয়া। তার দুটি সন্তান। অপু ও দুর্গা। দুর্গা দশ-এগারো বছরের দুরন্ত কিশোরী। সে সারা দিন বাড়ির বাইরে বাইরে থাকে। বনে-জঙ্গলে ঘুরে ঘুরে নানা ফল সংগ্রহ করে। তারপর সেগুলো বাড়িতে এনে ছোট ভাই অপুর সঙ্গে ভাগ করে খায়। মেয়ের এমন দুরন্তপনায় মা সর্বজয়া ভীষণ বিরক্ত হলেও সন্তানদের প্রতি তার অগাধ ভালোবাসা। স্নেহ ও শাসনের সন্নিবেশে সর্বজয়া হয়ে উঠেছে গ্রামীণ বাঙালি মায়ের শাশ্বত রূপ।
উদ্দীপকের আনোয়ারা বেগম তার ছেলেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। কখনো আদর করে, কখনোবা রাগ করে মোবাইল ফোনের আসক্তি থেকে তাদের দূরে রাখার জন্য চেষ্টা করেন। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের সর্বজয়ার মধ্যেও অপু ও দুর্গাকে নিয়ে একইভাবেই চিন্তিত হতে দেখি। এদিক থেকে বিলকিস বেগম সর্বজয়ার যথার্থ প্রতিনিধি।
'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে সর্বজয়ার ছেলে অপু এবং মেয়ে দুর্গা সুযোগ পেলেই বাড়ির বাইরে বনে-বাদাড়ে ঘুরে বেড়ায়। বিশেষ করে দুর্গা মায়ের কোনো কথাই শোনে না। সে তার নিজের খেয়াল খুশিমতো চলে। অন্যের গাছের আম কুড়িয়ে খায়। ছোট ভাই অপুর সঙ্গে খুনশুটি করে। মাকে সে কোনো কাজেই সহযোগিতা করে না। পরিবারের প্রতি তার কোনো দায়িত্ববোধই নেই। এগুলো দেখে সর্বজয়া খুবই চিন্তিত হয়। দুর্গাকে বকাঝকা করে। স্বামী হরিহরের কাছে সে মেয়ের ব্যাপারে নালিশ জানায়। চৈত্র মাসের রোদে ঘুরে মেয়ে জ্বরে পড়তে পারে - এ আশঙ্কায় তার চিন্তাও হয়। অত বড় মেয়েকে সে কোনোভাবেই তার দুরন্তপনাকে দমিয়ে রাখতে পারে না। ফলে তার মধ্যে সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তা কাজ করে, যা উদ্দীপকের বিলকিস বেগমের মধ্যেও পরিলক্ষিত হয়। তাই বলা যায়, প্রদত্ত মন্তব্যটি যথার্থ।