'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে লেখক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পবিরারে জন্ম নেওয়া গ্রামীণ জীবনে প্রকৃতিঘনিষ্ঠ দুটি শিশুর যে জীবনালেখ্য তুলে ধরেছেন তার সঙ্গে গভীর মিল থাকায় “উদ্দীপকের ২য় অংশে প্রতিফলিত দিকটিই 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের উপজীব্য বিষয়।
'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে লেখক প্রকৃতিঘনিষ্ঠ দুই ভাই-বোনের। আনন্দময় শৈশবের পরিচয় তুলে ধরেছেন। এই দুই ভাই-বোন মানুষের চিরায়ত শৈশবের প্রতীক। দুই ভাই-বোনের মধ্যে কারণে অকারণে খুনশুটি হলেও পরক্ষণেই তা তারা ভুলে যায়। তারা মনের আনন্দে গ্রামের ঝোপ-ঝাড়ে ছুটে বেড়ায়। ফলমূল সংগ্রহ করে খায়। সারা দিন বনেবাদাড়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য মায়ের বকুনি খেলেও তাদের দুরন্তপনা থামে না।
উদ্দীপকের ২য় অংশে মানিক ও তার বোন মেঘনাকে নিয়ে সারা দিন মাঠে-ঘাটে, বনেবাদাড়ে ঘুরে বেড়ায়। নাওয়া-খাওয়া ভুলে তারা নদীর ধারে কাশবনে ঘোরে, কখনো খোলা মাঠে ঘুড়ি ওড়ায়। তারা ইচ্ছামতো সারা গ্রামে ছুটে বেড়ায়। আপন মনে খেলা করে। বাড়ি ফিরে সারা দিন ঘুরে বেড়ানোর গল্প করে। তাদের এই ছুটে বেড়ানো এবং 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের অপু ও দুর্গার ছুটে বেড়ানো একসূত্রে গাঁথা।
মেতে থাকে। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে গ্রামীণ জীবনে প্রকৃতিঘনিষ্ঠ দুই ভাই-বোন অপু ও দুর্গা। তারা প্রকৃতির নানা বস্তুর সঙ্গে মিলেমিশে হাসি-আনন্দে গল্পে এই দুই ভাই-বোনের কর্মকান্ডের প্রতিফলন ঘটেছে উদ্দীপকের ২য় অংশে। এভাবে উদ্দীপকের মেঘনা আর মানিক গল্পের অপু ও দুর্গার সার্থক প্রতিনিধি হয়ে উঠেছে। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।