বক্তব্য বিষয়ের দিক থেকে বলা যায়, "উদ্দীপকের বিষয়বস্তু 'বই পড়া' প্রবন্ধের অংশবিশেষের বর্ণনা মাত্র”- মন্তব্যটি যথার্থ।
'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক দেখিয়েছেন শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে ভিতর থেকে মানুষ করে তোলা। যে মানুষ স্কুল-কলেজের শুধু শিক্ষায় নয়, বরং স্বীয় অনুসন্ধিৎসা ও আত্মজ্ঞানের নানা বিষয়ে অবগাহন করেছেন তিনি সুশিক্ষিত। প্রকৃত শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ মনুষ্যত্ব অর্জন করে সমাজের কল্যাণ সাধন করে থাকেন। এ কারণেই সুশিক্ষিত লোককেই লেখক সুশিক্ষিত বলেছেন।উদ্দীপকের ঘটনাংশে দেখা যায়, মানুষের জীবনধারার দুটি প্রবাহ যথা- ইতিবাচক ও নেতিবাচকতাকে তুলে ধরা হয়েছে। মানুষ যখন নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থে বিভোর থাকে এবং কেবল অর্থ উপার্জনের জন্য শিক্ষা গ্রহণ করতে চায় তখন তার নেতিবাচক দিকটি প্রকাশ পায়। - অপরদিকে মানুষ যখন সাহিত্য, শিল্প, ধর্ম প্রভৃতি কল্যাণময় কাজের মধ্য দিয়ে আনন্দ অনুভব করে তখন তার মধ্যে সৃষ্টি হয় ইতিবাচক - মানসিকতার। এই ইতিবাচক মানসিকতায় একটি জাতিকে উন্নত করে তোলে। উদ্দীপকের এসব বিষয়বস্তু 'বই পড়া' প্রবন্ধের আংশিক বিষয়কে ধারণ করতে পেরেছে।
'বই পড়া' প্রবন্ধেও উদ্দীপকের এই মানবজীবনের দুটি ধারা সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন লেখক। কিন্তু প্রবন্ধের মূলভাব আরো বেশি বিস্তৃত। লেখক আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটিকে তুলে ধরে মনের চিকিৎসা করার জন্য লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। কেননা এই লাইব্রেরিতে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে নিজের মর্জি অনুযায়ী বই পড়তে পারে এবং স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠতে পারে। মানুষের মধ্যকার নেতিবাচক দিকটি দূর করতে লেখক অধিক পরিমাণে বই পড়ার অভ্যাস গড়তে বলেছেন। কেননা জাতির মানসিক বিকাশকে সমৃদ্ধ করতে বই পড়া, জ্ঞানচর্চা ও সাহিত্যচর্চার বিকল্প নেই। তাই বলা যায়, "উদ্দীপকের বিষয়বস্তু 'বই পড়া' প্রবন্ধের অংশবিশেষের বর্ণনা মাত্র।"