"উদ্দীপকটির মূলভাব মূলত 'বই পড়া' প্রবন্ধের অংশবিশেষকে প্রস্ফুটিত করে।"- বক্তব্যটি যথার্থ। কেননা 'বই পড়া' প্রবন্ধের - আলোচনা আরও ব্যাপক ও বিস্তৃত।'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক বই পড়ার গুরুত্ব উপস্থাপন করে কীভাবে মানুষের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা যায় সেসব গুরুত্বপূর্ণ দিক আলোচনা করেছেন। তাঁর মতে, যে বিষয় পাঠক স্বেচ্ছায় গ্রহণ করতে পারে সেটি তার মানসিক বিকাশে ভূমিকা রাখে। এর জন্য তিনি বেশি বেশি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। আবার শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটিও তিনি তুলে ধরেছেন।
উদ্দীপকে লাইব্রেরির গুরুত্বের কথা আলোচিত হয়েছে। এখানে নুরিনের বই পড়ার প্রতি অনুরাগ দেখা যায়। তার বাবা তাকে ভর্তি করিয়ে দেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরিতে। তার শিক্ষক বলেন, "জ্ঞানের ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করতে হলে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই।” উদ্দীপকের এ বিষয়টি 'বই পড়া' প্রবন্ধে আলোচিত অনেক বিষয়ের মধ্যে অন্যতম একটি বিষয়।'বই পড়া' প্রবন্ধে লেখক মানবজীবন গঠনে লাইব্রেরির গুরুত্বের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি আমাদের দেশে শিক্ষাব্যবস্থার অসংগতির দিকগুলোও তুলে ধরেছেন। তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অপূর্ণাঙ্গতা, বই পড়ার প্রতি মানুষের অনীহা, অতীত শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষাগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা, সাহিত্যের প্রতি রুচিবোধ, বই পড়ার গুরুত্ব ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরেছেন। প্রবন্ধের এসব বিষয় উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।