উদ্দীপকের গানিম 'সুভা' গল্পের সুভার সঙ্গে শারীরিক প্রতিবন্ধিতা ও সামাজিক বঞ্চনার দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'সুভা' গল্পের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী শিশুর মন, চিন্তা, আবেগ ও অনুভূতির সূক্ষ্মতর দিকগুলো উপস্থাপন করেছেন। বাষ্প্রতিবন্ধী সুভাকে মা গর্ভের কলঙ্ক ভেবে বিরক্ত ছিলেন। তার সঙ্গে কেউ মেশে না, খেলে না। এভাবে সে নানাভাবে পরিবার ও সমাজে অবহেলা, অনাদর ও অবজ্ঞার শিকার হয় প্রতিবন্ধিতার কারণে।
'সুভা' গল্পের প্রধান চরিত্র সুভা। সে জন্ম থেকেই বোবা। তার এই শারীরিক প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বাবা-মা বেশ চিন্তিত থাকেন। সুভার মা সুভাকে তার গর্ভের কলঙ্ক বলে জ্ঞান করেন। সে কারও কাছ থেকে কোনো সহানুভূতি পায় না। তার একমাত্র ভাষাসম্পন্ন বন্ধু ছিল প্রতাপ। তাকেও দেখা যায় সুভার অনুভূতি উপলব্ধি করতে চায় না। তার ইচ্ছা, আবেগ, অনুভূতি, সিদ্ধান্ত কোনোকিছুরই কেউ মূল্য দেয়। উদ্দীপকের গানিমকেও দেখা যায় যে জন্মগতভাবে তাঁর পা দুটি নেই। এজন্য শিশুকাল থেকেই তাকে পদে পদে সামাজিক বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। শারীরিক প্রতিবন্ধিতার জন্য তিনিও সমাজে কারও কাছ কোনো মূল্য পেতেন না। সমাজ তাকেও সব সময় ছোট ও হীন জ্ঞান করত। এভাবে উদ্দীপকের গানিম 'সুভা' গল্পের সুভার সঙ্গে শারীরিক প্রতিবন্ধিতা ও সামাজিক বঞ্চনার দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ।