হ্যাঁ, উপকারের প্রতিদান, মানবিক দায়বদ্ধতা ও ন্যায়বোধের দিক থেকে উদ্দীপকে 'প্রত্যুপকার' গল্পের মূলভাব প্রতিফলিত হয়েছে।
'প্রত্যুপকার' গল্পে উপকারী ব্যক্তিকে রক্ষা করার জন্য আলী ইবনে আব্বাস নিজের জীবন বিপন্ন করেও সত্য ও মানবতার পক্ষে দাঁড়ান। তাঁর কৃতজ্ঞতা, সাহস ও দয়া গল্পটিকে মানবতার সুন্দর উদাহরণে রূপ দেয়।
উদ্দীপকে যেমন হজরত আলী (রা.) ধর্ম-জাতি না দেখে একজন বৃদ্ধ ভিক্ষুকের দায়িত্ব নেন, তেমনই গল্পে আলী ইবনে আব্বাস ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিয়েও উপকারদাতাকে বাঁচাতে চেষ্টা করেন। উভয় ক্ষেত্রেই মানবিকতা বড়ো হয়ে উঠেছে। উভয় ক্ষেত্রেই ধর্ম-সম্প্রদায় বা ব্যক্তিগত লাভ নয়- বরং মানবতার ঋণ, ন্যায়পরায়ণতা ও কৃতজ্ঞতা হয়ে উঠেছে মূলভিত্তি।
উদ্দীপকে হজরত আলী (রা.) দেখিয়েছেন- মানুষকে সাহায্য করা কেবল ধর্মীয় নয়, মানবিক দায়িত্ব। কর্মক্ষম অবস্থায় সমাজ তার সেবা নিয়ে অক্ষম অবস্থায় তাকে সাহায্য না করা অন্যায়। ঠিক এ মূল্যবোধই 'প্রত্যুপকার' গল্পে প্রতিফলিত হয়েছে। গল্পে আলী ইবনে আব্বাস অতীতে পাওয়া উপকারের মর্যাদা রাখেন এবং নিজের জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও উপকারী ব্যক্তির প্রাণরক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। উভয় ক্ষেত্রেই উপকারের প্রতিদান, দয়া, ন্যায় এবং মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্য দেওয়ার নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে প্রত্যুপকার গল্পের সম্পূর্ণ মূলভাব প্রতিফলিত হয়েছে।