অনুকূল পরিবেশের অভাবে সুভার যথাযথ বিকাশ হয়নি বিধায় "উপযুক্ত পরিবেশ ও পরিচর্যা পেলে কাব্যের মতো সুভা সমাজের একজন হয়ে উঠতে পারত" মন্তব্যটি যথার্থ।
'সুভা' গল্পের সুভা ছিল বাক্প্রতিবন্ধী। তাই পিতা-মাতার হৃদয়ভার ছিল সে। সবার কথা শুনে সে নিজেকে বিধাতার অভিশাপ ভেবে আত্মগোপন করতে চাইত। তার মা তাকে নিজের ত্রুটিস্বরূপ দেখতেন, গর্ভের কলঙ্ক ভেবে বিরক্ত হতেন। কেউ তার সঙ্গে মিশত না, খেলা করত না। এমন প্রতিকূল পরিবেশে তার স্বাভাবিক বিকাশ হয়নি।
উদ্দীপকের কাব্য একজন বাক্প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও বাবা-মায়ের কাছ থেকে পরম স্নেহ-মমতা ও আদর-যত্ন পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে উঠেছে। কাগজে তার আঁকিবুকি দেখে মা তাকে নিয়ে আশান্বিত হন। তিনি বুঝে যান- মুখে ভাষা না থাকলেও তুলির আঁচড়েই সে একদিন বিশ্ব জয় করবে। স্বামীর সঙ্গে পরামর্শ করে ছেলের আঁকাআঁকির জন্য যা যা করা দরকার সব করলেন। ফলে সে তার প্রতিভা সবাইকে দেখিয়ে দেয়। দেশে-বিদেশে প্রদর্শনী হয় তার ছবির, বহু মূল্যে বিক্রি হয়।'সুভা' গল্পে সুভা একজন বাক্প্রতিবন্ধী। তবে সে তার চারপাশের সবকিছুই উপলব্ধি করতে পারে। বাক্প্রতিবন্ধী সুভা মা, পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন কারও কাছ থেকে কোনো ধরনের মানসিক সহায়তা বা সহানুভূতি পায়নি। অথচ সে প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যেতে পেরেছে। প্রতাপের কথায় সে কষ্টও পেয়েছে। বাবা তাকে নিয়ে কলকাতায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে সে চোখের জলে বুক ভাসিয়েছে। গোয়ালের গাভি দুটোকে সে নিজের বেদনার সঙ্গী করেছে। পরিবার, সমাজ থেকে সে শুধু কষ্টই পেয়েছে, কোনো অনুপ্রেরণা পায়নি। পরিবার ও সমাজ থেকে উপযুক্ত পরিবেশ ও পরিচর্যা পেলে কাব্যের মতো সুভাও সমাজের একজন হয়ে উঠতে পারত। কেননা সব বোধ অনুভূতি তার পরিপূর্ণ ছিল। এ দিক থেকে মন্তব্যটি যথার্থ।