◉ উদ্দীপকের সাগরিকা সংসারে অবহেলিত এবং নিগৃহীত, তাই "উদ্দীপকের সাগরিকা যেন 'নিমগাছ' গল্পের গৃহবধূর প্রতিচ্ছবি" মন্তব্যটি যথার্থ।
◉ 'নিমগাছ' গল্পে লেখক প্রতীকের আশ্রয় নিয়েছেন গল্পে নিমগাছের গুণ ও উপকারের কথা তুলে ধরা হয়েছে। নিমগাছ এত উপকার করার পরও নিমগাছকে সকলে অবহেলায় ফেরে রাখে। এখানে নিমগাছের প্রতীকে আমাদের সমাজে নারীদের অপরিসীম আত্মত্যাগ এবং তাদের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।
◉ উদ্দীপকের সাগরিকা তার পরিবারের উন্নতির জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম - করলেও কেউ তার কাজের মূল্যায়ন করে না। তিনি পরিবারের সবার জন্য রান্না-বান্না করেন, কাপড়-চোপড় ধুয়ে দেন, সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর ব্যবস্থাও করেন। অসুস্থ শাশুড়ির সেবাযত্ন করেন। অথচ তিনি অসুস্থবোধ করলে কেউ তার খোঁজ রাখে না। তার এই অবস্থার সঙ্গে 'নিমগাছ' গল্পের গৃহকর্ম নিপুণা লক্ষ্মী বউটির মিল রয়েছে। সেও পরিবারের সবার প্রতি খেয়াল রাখলেও তার প্রতি কেউ নজর দেয় না। সে সংসারে সবার সুখের কথা ভাবলেও তার কথা - কেউ ভাবে না। সংসারের নিয়মে সে এমনভাবে বাঁধা পড়ে আছে যে, ইচ্ছে করলেও সে তা ছিন্ন করতে পারে না, তার অবদান স্বীকার করে না। উদ্দীপকের সাগরিকার ক্ষেত্রেও তা-ই ঘটেছে।
◉ 'নিমগাছ' গল্পে নিমগাছের প্রতীকে লেখক দেখিয়েছেন গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মী বউয়ের ইচ্ছা-অনিচ্ছার কেউ কোনো মূল্য দেয় না। সংসার থেকে মুক্তি পেতে চাইলেও সে সম্পর্কের শিকড় ছিন্ন করে বের হতে পারে না। উদ্দীপকের সাগরিকার বেলায়ও এই বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। এসব দিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।