'উদ্দীপক (ii)-এর বলাই যেন 'নিমগাছ' গল্পের কবির প্রতিরূপ”-উক্তিটি যথার্থ।
আমাদের পারিবারিক জীবনে এমন অনেক মানুষ আছে যারা সারা জীবন অন্যের কাছ থেকে সেবা নিতে ব্যস্ত, কিন্তু সেবাদানকারীর কোনো মূল্য তারা দেয় না। তাদের যত্ন করে না। বরং সবার কাছে সেবাদানকারীরা অবহেলিত, শোষিত থাকে। তবে অনেক সময় দেখা যায় এমন কিছু মানুষ থাকে যারা তাদের মূল্য বোঝে।
উদ্দীপক (ii)-এর বলাই এমনই একজন। তাকে দেখা যায়, গাছের উপকারিতার জন্য নয়, সে গাছকে প্রকৃত অর্থেই ভালোবাসে। তাই তো শিমুল গাছের চারা উপড়ে ফেললে বলাই ফুঁপিয়ে কেঁদেছিল। আবার কেউ ঢিল দিয়ে আমলকী পাড়লে সে কষ্ট পেয়েছে। আসলে বলাই বৃক্ষের গুণের জন্যই শুধু নির্বিচারে গাছকে ব্যবহার করতে চায়নি। সে গাছের প্রতি মমত্বশীল ও যত্নশীল আচরণ করেছে।
'নিমগাছ' গল্পে এমনই এক চরিত্র হলেন কবি। যেখানে সকলে নিমগাছের সার অংশ নেওয়ার জন্য তার নানা অংশ নির্বিচারে ব্যবহার করে সেখানে কবির মধ্যে ফুটে ওঠে ভিন্ন মানসিকতা। তিনি গাছের কোনো অংশ নেন না, বরং গাছে থোকায় থোকায় ফুটে থাকা ফুল দেখে মুগ্ধ হন। যার মধ্য দিয়ে আসলে মমত্বশীল ও যত্নশীল অভিব্যক্তি প্রকাশ পায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপক (ii)-এর বলাই যেন 'নিমগাছ' গল্পের কবির প্রতিরূপ।