"উদ্দীপকটি 'নিমগাছ' গল্পের মূলভাবকে ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে"- মন্তব্যটি যথার্থ। কারণ এখানে শুধু আলোচ্য গল্পের গৃহবধূর আত্মত্যাগের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
'নিমগাছ' গল্পে একটি নিমগাছের প্রতীকে গৃহকর্ম-নিপুণা এক লক্ষ্মীবউয়ের জীবনবাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। নিমগাছ যেমন নানাবিধ উপকার করেও মানুষের যত্ন পায় না, তেমনই লক্ষ্মীবউটিও সংসারের জন্য জীবন উজাড় করে অক্লান্ত পরিশ্রম করেও কারও সহমর্মিতা পায় না। এর মাধ্যমে গল্পকার নারীর অপরিসীম আত্মত্যাগ, নারীর মানবিক মর্যাদা, পারিবারিক ও সামাজিক গুরুত্ব উপলব্ধি করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
উদ্দীপকে জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি করতে বৃক্ষের দিকে তাকাতে বলা হয়েছে। কারণ বৃক্ষ শুধু নিজের বৃদ্ধি নিয়ে ব্যস্ত থাকে না। তাকে ফুল ফুটিয়ে ও ফল ধরিয়ে জীবন সার্থক করতে হয়। 'নিমগাছ' গল্পে প্রতীকী অর্থে একজন নারীর জীবন তুলে ধরা হয়েছে। এখানে সংসারের ধরা-বাঁধা নিয়মে একজন নারীর জীবন এমনভাবে বন্দি থাকে যে, সে ইচ্ছে করলেও মনের মতো করে জীবনকে গুছিয়ে নিতে পারে না। তাকে সংসারের নিয়মের মাঝে আটকে থাকতে হয়। নিজেকে সম্পূর্ণ বিলিয়ে দিয়েও একজন নারী জীবনকে পরিপূর্ণভাবে উপলব্ধি করতে পারে না।
'নিমগাছ' গল্পে এক গৃহবধূর সংসারের অবদানের দিকটি প্রকাশিত হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে তার অবহেলিত হওয়ার দিকটি।একজন কবি নিমগাছের এই সাধারণ উপকারী দিকের বাইরে গিয়ে তার সৌন্দর্য আবিষ্কার করেছেন, মুগ্ধদৃষ্টিতে চেয়ে রয়েছেন। গৃহবধূ তার সঙ্গে চলে যেতে ইচ্ছে করলেও সংসারের মায়াজাল থেকে বের হতে পারে না। অন্যদিকে উদ্দীপকে কেবল বৃক্ষকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। কারণ বৃক্ষ কঠোর পরিশ্রমী ও আত্মত্যাগের প্রতিচ্ছবি। কিন্তু 'নিমগাছ' গল্পের আত্মত্যাগের বিষয়টি ছাড়া উদ্দীপকে অন্যান্য বিষয়ের প্রকাশ ঘটেনি। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।