'উদ্দীপকের কলি যেন বাঙালি নারীর বাস্তব প্রতিচ্ছবি'-'নিমগাছ' গল্পের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: "উদ্দীপকের 'কলি' যেন বাঙালি নারীর বাস্তব প্রতিচ্ছবি"- মন্তব্যটি যথার্থ। কেননা সে গৃহবদ্ধ হিসেবে নিঃশর্তভাবে সংসারের কাজ করেছে। 'নিমগাছ' গল্পে নিমগাছ প্রতীকের সূত্রে গল্পকার দেখিয়েছেন নারীর অপরিসীম আত্মত্যাগ। নারীর মানবিক মর্যাদা, পারিবারিক ও সামাজিক গুরুত্ব উপলব্ধি করার ইঙ্গিত রয়েছে উক্ত গল্পটিতে। একটি নিমগাছ যেমন অজস্র উপকার করেও বিনিময়ে পায় অযত্ন ও অবহেলা তেমনই গৃহবধূও অক্লান্ত পরিশ্রম করে বিনিময়ে সংসার থেকে দুঃখ-কষ্ট পেয়ে থাকে। গল্পের গৃহবধূ যেন বাঙালি নারীর বাস্তব প্রতিচ্ছবি। উদ্দীপকে সংসারের প্রতি গভীর মনোযোগী নারীর প্রতি পুরুষের অবহেলা ও মানসিক নির্যাতনের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। এখানে গৃহবধূ কলি তার সন্তান, সংসার গভীর মনোযোগ দিয়ে আগলে রাখলেও সামান্য বিষয় নিয়ে স্বামী নিপুনের অবহেলার শিকার। নিপুনের বাবা-মাকে নিজের মা-বাবার মতো সেবা-যত্ন দিয়ে আগলে রাখলেও নিপুন কলিকে তার যোগ্য মর্যাদা দেয় না। সে বহুজাতিক কোম্পানির চাকরি নিয়ে ব্যস্ত থাকে। সন্তানদের স্কুলে আনা-নেওয়াসহ সংসারের সমস্ত কাজই কলি একা করে থাকে। অথচ সেসব কাজের কোনো মূল্যায়ন সে পায় না। এ বিষয়টি 'নিমগাছ' গল্পের গৃহলক্ষ্মীবউটির সংসারের সব কাজ করেও মূল্যায়ন না পাওয়ার সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা। এই গল্প লেখক দেখিয়েছেন পরিবারে নারীর আত্মত্যাগ ও অবমূল্যায়িত হওয়ার বিষয়টি। 'নিমগাছ' গল্পে নিমগাছের প্রতীকে লেখক গৃহকর্ম-নিপুণা এক লক্ষ্মীবউয়ের জীবন-যন্ত্রণাকে নির্দেশ করেছেন। সেই বউ শ্বশুরবাড়িতে সবার জন্য নিবেদিতপ্রাণ, অথচ তার প্রতি কেউ সদয় নয়। সেই জীবন থেকে সে মুক্তি চাইলেও সংসারের শিকড় ছিন্ন করে আসতে পারে না। উদ্দীপকের কলিও সংসারে সবার জন্য সারা দিন খেটেও যথাযোগ্য মর্যাদা পায় না। সন্তান ও সংসার নিয়ে দিন কাটলেও স্বামীর অবহেলার শিকার হয়। এই দিক বিবেচনায় বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
SSC বাংলা ১ম পত্র CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · বাংলা ১ম পত্র · সৃজনশীল
'উদ্দীপকের কলি যেন বাঙালি নারীর বাস্তব প্রতিচ্ছবি'-'নিমগাছ' গল্পের …
উদ্দীপক
Dhaka · 2022
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর