উদ্দীপকে প্রতিফলিত স্মৃতিকাতরতার অনুভূতির অন্তরালে মাতৃভূমির প্রতি কবির গভীর মমত্ববোধ প্রকাশিত হয়েছে, যা 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবির মাঝেও একইভাবে পরিলক্ষিত হয়।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কপোতাক্ষ নদকে ঘিরে স্মৃতিকাতরতার অন্তরালে মাতৃভূমির প্রতি কবির অপার ভালোবাসা ও মমত্ববোধ প্রকাশিত হয়েছে। বস্তুত, শৈশবের প্রিয় এ নদকে ঘিরেই তিনি মাতৃভূমির প্রতি তাঁর হৃদয়াবেগের বহিপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। কবিতার পুরোভাগ জুড়ে এ বিষয়টিই বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকের কবিতাংশের কবি শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত গ্রামীণ প্রকৃতির কথা স্মরণ করেছেন। যদিও পল্লিপ্রকৃতির স্নেহচ্ছায়ায় বেড়ে উঠেছেন তিনি, তবুও জীবন-জীবিকার তাগিদে আজ সেখান থেকে তিনি বহু দূরে। তবে দূরে থেকেও প্রিয় মাতৃভূমি ও সেখানকার প্রকৃতিঘনিষ্ঠ জীবনের কথা তিনি ভুলতে পারেননি। আর তাই বহুদিন পরও সেসব কথা মনে করে তিনি আবেগাপ্লুত হন। উদ্দীপকে ফুটে ওঠা কবির এই স্মৃতিকাতরতার দিকটি আলোচ্য কবিতায়ও একইভাবে পরিলক্ষিত হয়।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কপোতাক্ষ নদ কবির মনে যে গভীর রেখাপাত করেছে তা এককথায় অনবদ্য। এ নদের স্নেহসুধা পান করে তিনি বেড়ে উঠেছেন। তাই প্রবাস জীবনে দেখা আর কোনো নদই তার সেই স্নেহতফা মেটাতে পারেনি। এ কারণে প্রিয় কপোতাক্ষের দেখা পাওয়ার জন্য তিনি এতটা ব্যাকুল। একইভাবে, উদ্দীপকের কবিতাংশের কবিও শৈশবস্মৃতির উল্লেখ করে ব্যাকুলতা প্রকাশ করেছেন। কবিদ্বয়ের এই ব্যাকুলতা মূলত তাঁদের মাতৃভূমিপ্রীতিরই নামান্তর। কেননা, মাতৃভূমিকে ভালোবাসেন বলেই সেখানকার প্রকৃতির বিভিন্ন অনুষঙ্গের কথা ভেবে তাঁরা আকুল হয়েছেন। এ দিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।