"উদ্দীপক ও 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার মূলভাব অভিন্ন।”-মন্তব্যটি যথার্থ। কেননা উদ্দীপকে স্বদেশেপ্রেমের প্রকাশ ঘটেছে, যা 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার মূলভাব।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবি তাঁর শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদের কথা বলেছেন। এই স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে আসলে তাঁর অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম পরিস্ফুট হয়ে উঠেছে।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবির দেশপ্রেমের দিকটিই প্রকাশ পেয়েছে। কবি ছিলেন ইংরেজি সাহিত্য ও পাশ্চাত্য জীবনযাপনের প্রতি প্রবল আগ্রহী। তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য নিজ ভূমি ছেড়ে ফ্রান্সে চলে যান। কিন্তু সেখানে অবস্থানকালে তিনি উপলব্ধি করতে পারেন দেশের প্রতি তাঁর কত টান। বিভিন্ন জায়গায় তিনি গেছেন কিন্তু শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদে তিনি যতটা মুগ্ধতা খুঁজে পেয়েছেন তেমনটি অন্য কোথাও পাননি। তিনি এই দেশের অকাতর দানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। দেশ যে তাঁকে মায়ের স্নেহে আগলে রাখত এ কথা তিনি কবিতায় প্রকাশ করেছেন। মাতৃরূপী এই দেশের কোলে তিনি আবার ফিরে আসতে চেয়েছেন, যা মূলত দেশের প্রতি প্রেম ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। উদ্দীপকে আমরা দেশের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশই দেখতে পাই 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবির মতো।
উদ্দীপকের পঙ্ক্তিগুলোর মর্মার্থেও দেশপ্রেমের বিষয়টি প্রতীয়মান হয়। এখানেও দেশের ধন-সম্পদ, সৌন্দর্যের কথা বলা হয়েছে। 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবির বর্ণনায় মাতৃভূমি সবচেয়ে সেরা। উদ্দীপকের পঙ্ক্তিগুলোতেও মাতৃভূমিকে সেরা বলা হয়েছে। অর্থাৎ উদ্দীপক এবং আলোচ্য কবিতার মূল সুর একই। সেটি হলো দেশপ্রেম। তাই বলা যায়, উদ্দীপক ও 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার মূলভাব অভিন্ন।