"উদ্দীপক-২ এবং 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবির মনোভাব একইসূত্রে গাঁথা।"- মন্তব্যটি যথার্থ বলেই আমি মনে করি।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার স্বদেশের প্রিয় নদ কপোতাক্ষকে ঘিরে স্মৃতিকাতার আড়ালে কবির অত্যুজ্বল দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে। বিদেশি ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির টানে এক সময় কবি সুদূর ফ্রান্সে পাড়ি জমান। কিন্তু অল্পদিনের মধ্যেই কবির মোহভঙ্গ হয়। অনুশোচনাদগ্ধ কবি তখন মাতৃভূমির স্নেহস্পর্শ পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। আলোচ্য কবিতায় কপোতাক্ষকে ঘিরে কবির সেই ব্যাকুলতাই বাণীরূপ লাভ করেছে।
উদ্দীপক-২ এর কবিতাংশে মাতৃভূমির প্রতি কবি হৃদয়ের গভীর ভাবাবেগ ফুটে উঠেছে। সেখানে দেখা যায়, বিদেশ-বিভূঁয়ে অবস্থান করেও তিনি তাঁর প্রিয় মাতৃভূমিকে কিছুতেই ভুলতে পারেননি। হৃদয়ের মনিকোঠায় তাই মাতৃভূমিকে তিনি সযতনে রেখেছেন। তা সত্ত্বেও ক্ষণে ক্ষণে দেশমাতৃকার কথা মনে করে তিনি আপ্লুত হয়ে পড়েন, তার স্নেহস্পর্শ পাওয়ার জন্য আকুল হয়ে ওঠেন। কেননা, মাতৃভূমি তাঁকে যে স্নেহবন্ধনে আবদ্ধ করেছে তা কখনো ছিন্ন হওয়ার নয়।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবি তাঁর মাতৃভূমিকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসেন। আর সে ভালোবাসা থেকেই তিনি কপোতাক্ষকে আশ্রয় করে মাতৃভূমি ও মাতৃভাষার প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসার কথা বঙ্গবাসীর কানে পৌঁছে দিতে চেয়েছেন। এক্ষেত্রে প্রবাসে অবস্থান করেও কপোতাক্ষ নদের প্রতি তাঁর যে অনুরাগ, তা মূলত কবির দেশাত্ববোধেরই নামান্তর। একইভাবে, উদ্দীপক-২ এর কবিতাংশের কবিও মাতৃভূমির স্নেহডোরে আবদ্ধ। আর তাই বিদেশ-বিভূঁয়ে থেকেও তিনি মাতৃভূমির স্নেহস্পর্শ পেতে এতটা ব্যাকুল, যা 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবির মনোভাবেরই সমান্তরাল। সেদিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ অর্থবহ।