শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধ অর্জন করতে না পারায় “উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনা 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধে লেখকের প্রত্যাশার বিপরীত।" মন্তব্যটি যথার্থ।
'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধে লেখক মানুষকে জীবসত্তা থেকে মানবসত্তায় উত্তরণের জন্য শিক্ষাকে অন্যতম উপায় হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, শিক্ষার আসল কাজ হচ্ছে মানুষকে মনুষ্যত্বলোকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। পাশাপাশি তিনি অন্নবস্ত্রের চাহিদা পূরণ করার প্রতিও গুরুত্ব দিয়েছেন।
উদ্দীপকের যুবকরা শিক্ষিত হয়েও মনুষ্যত্ব বিবর্জিত। এ কারণে নৃশংস হত্যাকাণ্ডে তাদের হাত কাঁপেনি। তাদের জন্য 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধের প্রত্যাশিত প্রকৃত শিক্ষাই কাম্য ছিল; যে শিক্ষা তাদের ভেতরে মনুষ্যত্ববোধকে জাগিয়ে তুলতে পারত। এ প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, মানুষের জীবন হলো একটি দোতলা ঘর। জীবসত্তা হলো সেই ঘরের নিচতলা আর মানবসত্তা বা মনুষ্যত্ব হলো সেই ঘরে ওপরের তলা। এই জীবসত্তা থেকে মানবসত্তার ঘরে পৌঁছানোর মই হলো শিক্ষা। শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ সৃষ্টি, যা উদ্দীপকের যুবকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়নি।
'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধে লেখক প্রত্যাশা করেছেন মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ, যা প্রকৃত শিক্ষার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। কিন্তু উদ্দীপকের যুবকরা শিক্ষিত হলেও তারা প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত নয়। এ কারণে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটিকে যথার্থ বলা যায়।