◉ উদ্দীপকের আরশাদ ব্যাপারীর মতো মানুষদের মানসিকতা পরিবর্তনে 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধের শিক্ষা অনেকটাই প্রয়োজন।
◉ 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধে লেখক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের সম্পর্ক চিহ্নিত করেছেন। যথার্থ শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তি মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন হয়। আর মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি বিবেক দ্বারা চালিত হয়, লোভ দ্বারা নয়। প্রবন্ধে লোভের ফাঁদে পড়ে আত্মিক মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। প্রবন্ধের এই শিক্ষা গ্রহণ করলে মানুষের মানবসত্তার জাগরণ ঘটবে।
◉ উদ্দীপকের আরশাদ ব্যাপারীর মানসিকতায় লোভের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি বন্যার্তদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে অল্প দামে তাদের গবাদি পশু, জমাজমি, স্বর্ণালংকার কিনে নিয়ে বিপুল ধনসম্পত্তির মালিক হয়ে যান। তার এই লোভী মানসিকতা সম্পর্কে 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধে বলা হয়েছে, লোভ মানুষের মনুষ্যত্বের অবনমন করে, পতন ঘটায়। শিক্ষা-দীক্ষার ফলে মানুষ উপলব্ধি করতে পারে 'লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু' কথাটা বুলিমাত্র নয়, সত্য।◉ 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধে লেখক শিক্ষার মাধ্যমে মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটানোর কথা বলেছেন। শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য মানুষের মনুষ্যত্ববোধকে জাগ্রত করা। শিক্ষা মানুষের মনের মাঝে মূল্যবোধ সৃষ্টি করে। মানুষকে জীবসত্তার ঘর থেকে মানবসত্তার ঘরে পৌঁছে দেয়। উদ্দীপকের আরশাদ ব্যাপারী যদি আলোচ্য প্রবন্ধের এই শিক্ষা গ্রহণ করে মনুষ্যত্বের জাগরণ ঘটাতেন তাহলে তার দ্বারা এমন হীন কাজ করা সম্ভব হতো না। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।