'উদ্দীপকের প্রথম দিকের কথা অনুযায়ী যদি তার কর্মকাড পরিচালিত হতো তবে তার জীবনে সোনা ফলতো।'- 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধের আলোকে মন্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকে আমরা প্রথমেই দেখি শাহেদ করিম নামে বিজ্ঞ একজন আলোচককে। যিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথার ফুলঝুরি ফোটাতেন, সাথে অনেক নীতিবাক্য আওড়াতেন। কখনও কখনও নিজের হাসপাতালের নানা সেবামূলক কর্মকাডের প্রসঙ্গ এনে নিজেকে মানবহিতৈষি বলে উপস্থাপন করতেন। বাস্তবিক অর্থে সেগুলো ছিল লোক দেখানো মানুষের আস্থা অর্জনের জন্য লেফাফাদুরস্তির আশ্রয় নেয়া। মূলত শাহেদ করিম লেফাফাদুরস্তি আর শিক্ষাকে এক করে ফেলেছেন। তিনি ভুলেই গেছেন, শিক্ষার আসল কাজ জ্ঞান পরিবেশন নয় মূল্যবোধ সৃষ্টি।
শাহেদ করিমের মতো লোকেরা মানবসেবী নয়, ব্যবসায়ী। তাইতো এর পরই সবথেকে বড়ো মৃল্যবোধহীন কাজ তিনি করে ফেলেন। কেবল মুনাফার আশায় করোনার মতো মহামারী নিয়ে এতো বড়ো প্রতারণা সত্যিই বিস্ময়কর। যেটা 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধের সাথে সাংঘর্ষিক। প্রবন্ধে একদিকে অন্নবস্ত্রের চিন্তার বেড়ি উন্মোচন, অপরদিকে মনুষ্যত্বের আহ্বান, দুটোকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে দুটো একসাথে না চললে, বেড়িমুক্ত হয়েও মানুষ ওপরে যাওয়ার তাগিদ অনুভব করবে না, অথবা মনুষ্যত্বের আহ্বান সত্ত্বেও ওপরে যাওয়ার স্বাধীনতার অভাববোধ করবে। ঠিক তেমনই ঘটেছে উদ্দীপকে শাহেদ করিমের ক্ষেত্রে। তিনি আত্মনিয়ন্ত্রণ ভুলে, শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য ভুলে শিক্ষার প্রয়োজনের দিকটাকে অধিক প্রাধান্য দিয়ে ফেলেছেন। সেইসাথে নানা ধরনের শঠতা ও অপকর্মে জড়িয়ে ফেলেন। পরিণামে তিনি কঠোর শাস্তির মুখোমুখী হন। আজও কারা অভ্যস্তরে দিনাতিপাত করেছেন তিনি।
তাই বলাই বাহুল্য শাহেদ করিম যদি আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারতেন, মনুষ্যত্বের লালন-পালন করতে শিখতেন তবে আর তার এ পরিণতি হতো না।