গর্ভাবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ঔষধ গ্রহণের কারণেই মুনার শিশুর রক্তে সমস্যা পাওয়া যায়।
গর্ভাবস্থায় ব্যথানাশক ঔষধ ভ্রূণের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এ সময় অ্যাসপিরিনের কারণে ভূণের রক্ত সংক্রান্ত সমস্যা সৃষ্টি হয়। স্ট্রেপটোমাইসিন নামক ওষুধের কারণে শিশু শ্রবণ প্রতিবন্ধী হতে পারে। টেট্রাসাইক্লিন ভূণের হাড়ের বর্ধন ব্যাহত করে। ম্যালেরিয়া চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত কুইনাইনের প্রভাবে শিশু শ্রবণ প্রতিবন্ধী হতে পারে। যেসব মায়েরা গর্ভাবস্থায় এবং প্রসবকালে অধিক পরিমাণে ঔষধ সেবন করেন তাদের সন্তান ভূমিষ্ঠ হবার পর কম ঔষধ সেবনকারী মায়ের সন্তান অপেক্ষা কম সক্রিয় থাকে। গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ সময় শিশুর হূৎপিণ্ড ও অন্যান্য অঙ্গের গঠন শুরু হয়। ঔষধের প্রতিক্রিয়ায় এ সময় শিশুর অঙ্গের বিকাশ ব্যাহত হতে পারে। ১৯৬১ সালে জার্মানির কিছু ডাক্তার লক্ষ করেন যে, গর্ভাবস্থায় বমিভাব বন্ধের জন্য যে ঔষধ দেওয়া হতো তার মধ্যে থ্যালিডোমাইড নামক এক জাতীয় ঔষধিক উপাদান রয়েছে যা সেবনের ফলে ভ্রূণের চোখের ত্রুটি, তালু কাটা, ছোট কান, হাত ও পায়ের অনুপস্থিতি, আঙুল জোড়া লাগানো ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। যেহেতু গর্ভাবস্থায় যেকোনো ধরনের ঔষধের প্রভাব ভ্রূণের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গর্ভবতী মহিলাদের ঔষধ সেবন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।'