দৃশ্যকল্প-১ ও দৃশ্যকল্প-২ এ গর্ভাবস্থায় পারিপার্শ্বিক পরিবেশের প্রভাব এক নয়৷
গর্ভাবস্থায় পারিপার্শ্বিক প্রভাবের কারণে শিশুর মধ্যে যে অস্বাভাবিকতা দেখা যায় তাকে Teratology বলে।
গর্ভাবস্থায় মায়ের অপুষ্টির জন্য অপরিণত, রুগ্ন ও ক্ষীণকায় শিশুর জন্ম হতে পারে। গর্ভাবস্থায় প্রোটিনের অভাবে শিশু স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট হয়, লৌহের অভাবে রক্তস্বল্পতা হয়, ভিটামিন ও খনিজ লবণের অভাবে অসুস্থতার শিকার হয়, ক্যালসিয়ামের অভাবে অস্থি ও দাঁতের গঠন ব্যাহত হয়। তাই গর্ভাবস্থায় নিয়মিত রক্তের গ্রুপ, হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ, বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক রোগের পরীক্ষা, ওজন, রক্তচাপ ও নাড়িরগতি, ডায়াবেটিস নির্ণয়, আল্ট্রাসনোগ্রাম ইত্যাদি করা দরকার। এছাড়া এসময় টিটেনাস টক্সয়েড টিকাও দিতে হয়। গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত চিন্তাভাবনা, অনিয়ম ও মানসিক চাপ ভ্রূণের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত করে।
রোজিনার বয়স ১৬ বছর। দরিদ্রতার জন্য নিয়মিত সে পুষ্টিকর খাবার খায় না, স্বামীর সাথে তার প্রায়ই মনোমালিন্য হয়। অর্থাৎ, গর্ভকালীন সময়ে সে নানা প্রতিকূলতার শিকার। তাই তার পারিপার্শ্বিক পরিবেশ নিজের ও অনাগত সন্তানের জন্য নিরাপদ নয়। অন্যদিকে আইরিনের বয়স ২৩ বছর। সে নিয়মিত সুষম খাবার খায়, ডাক্তারের কাছে যায় এবং পরিবারের সবার সাথে সে আনন্দে সময় কাটায়। তাই আশা করা যায়, যথাসময়ে সে একটি সুস্থ সন্তান প্রসব করবে।