যে শিশু অটিজমে আক্রান্ত তাকে অটিস্টিক শিশু বলে। অটিজম হলো এক ধরনের বিকাশমূলক বৈকল্য। তবে সকল শিশুর একই মাত্রায় এই বৈকল্য থাকে না এবং সকলের লক্ষণগুলোও এক হয় না। সাধারণত শিশুর তিন বছর বয়সের মধ্যে এটির লক্ষণ প্রকাশ পায়। এ ধরনের শিশুদের মধ্যে চোখে চোখ না রাখা, একই আচরণ বার বার করা, পরিচিত মুখ দেখলে না হাসা, অন্যের সাথে সামাজিক সম্পর্ক গড়ে না তোলা, বস্তুর প্রতি অমনোযোগী থাকা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। অটিজম কোনো রোগ নয়। ফলে এ সমস্যাটি কখনোই নিরাময় করা সম্ভব না। তবে আচরণ পরিমার্জনার মাধ্যমে তাদের কাঙ্খিত আচরণের মাত্রা বৃদ্ধি ও অবাঞ্ছিত আচরণের মাত্রা কমানো যায় এবং নতুন ও জটিল' আচরণ শিক্ষা দেওয়া যায়। তাদেরকে কোনো কিছু বার বার শেখালে তারা তা করতে পারে। অটিজম শনাক্ত হওয়ার পর স্বতস্ফূর্তভাবে যোগাযোগ স্থাপনে প্রশিক্ষণ, সামাজিকতা, বুদ্ধিবৃত্তীয় বিকাশ, খেলাধুলা, বৃত্তিমূলক দক্ষতা অর্জন, আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে প্রশিক্ষণ ইত্যাদির মাধ্যমে তাদের আচরণের সমস্যাগুলো কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব। কিন্তু পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব নয়।
তাই আমি মনে করি, অটিস্টিক শিশুর আচরণ নিরাময়ে প্রশিক্ষণ ও বিশেষ শিক্ষাদান পদ্ধতির বিকল্প নেই।